শনিবার, ৩ মে, ২০২৫

শিবস্তুতিমাল্যাষ্টকম / shivstutimalyastakam ( সম্পূর্ণ বঙ্গানুবাদ অর্থ সহিত )


রা মে , ২০২৫

শ্রী শিবায় নমস্তুভ্যাং 🚩


🪔শিবস্তুতিমাল্যাষ্টকম ( সম্পূর্ণ বঙ্গানুবাদ অর্থ সহিত ) : -

( এই শিবস্তুতিমাল্যাষ্টকম শিবস্তোত্রটি আমার স্বরচিত যেটি মূলত দেবনাগরী অক্ষরে সংস্কৃত ভাষায় ভগবান শিবের প্রতি ভক্তিভাব থেকে নিজেই  রচনা করেছিলাম অনেক আগেই এবং এর অর্থও হিন্দিতে অনুবাদ করেছিলাম । কিন্তু বাংলার অনেক শিব ভক্তরা রয়েছেন যারা সংস্কৃত বা হিন্দি আদি ভাষায় রচিত বা লিখিত স্তব স্তোত্র বুঝতে বা পড়তে , উচ্চারণ করতে পারেন না , তাই মাতৃভাষা বাংলাতে তাদের ও সকল বঙ্গ সনাতনীদের পড়বার বোঝবার জন্যে সহজ সরল ভাবে সংস্কৃত যুক্তাক্ষরগুলিকে ভেঙে ভেঙে অর্থ সহিত অনুবাদ করে প্রকাশ করলাম আজ । )


 ব্রহ্মকপাল ভিক্ষাপাত্রধারী ভগবান শিবের শ্রীশ্রী ভিক্ষাটন ভৈরব লীলামূর্তি 



🚩শিবস্তুতিমাল্যাষ্টকম ( সম্পূর্ণ বঙ্গানুবাদ অর্থ সহিত ) : -


( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় অনুবাদ অর্থ সহিত )


ন যং নিয়ন্তুং শক্যস্যাৎ ন কালঃ

সাধয়েৎ যমঃ ন মায়য়া সংস্পৃশ্যোয়ং ।

ন বেত্তি ব্রহ্মবিত্তশ্চ ব্রহ্মর্বিষ্ণো

স্বর্গাদিদেব্যং নিত্যম অভিবাঞ্ছিতং ।।১।।

👉 না যাকে নিয়ম বেঁধে রাখতে পারে , না যাকে সময় ( কাল ) , না যম , না যাকে মায়া ধরতে ( স্পর্শ করতে ) পারে , না যাকে "অহং ব্রহ্মস্মি" বলা ব্রহ্মবিদেরাও এমনকি সাক্ষাৎ ব্রহ্মা বিষ্ণুও যারা সর্বজ্ঞ ভগবান বলে জ্ঞাত , তারাও সম্পূর্ণ জানতে পারেন , যাকে ( যার কৃপার অভয়হস্ত ও পরমপদকে ) স্বর্গাস্থিত ইন্দ্রাদি দেবতারাও নিত্য বাঞ্ছনা ( অভিলাষ ) করে থাকেন ,

স সৃষ্টিকালে শ্রীং দত্বা বিষ্ণবে

যস্যাংঘ্রীপদ্মং বসুধাধিপেন্দ্রঃ ।

কাঙ্ক্ষন্তি নিত্যং পরমেব গত্বুম্

স ত্যক্তসর্বো ধনরাজিবৃন্দঃ ।।২।।


👉 সৃষ্টির সৃজনকালে সমস্ত জগতের পরিপালনের জন্যে যিনি লক্ষ্মীদেবীকে ভগবান বিষ্ণুকে দান করেন, জগতের শ্রেষ্ঠ ঐশ্বর্য্যবান রাজাধিরাজেরা যার নিত্য পরম পাদপদ্ম প্রাপ্তির কামনা করেন , অথচ সেই তিনিই সমস্ত ধন-সম্পত্তি আদি সকল ঐশ্বর্য্য ত্যাগ করে ,


ভস্মাঙ্গধারী চ জটাকলাপং

ভিক্ষাটনং ব্রহ্মকপালহস্তম্ ।

বিচিত্রলীল্য রূপ্পরিভ্রম্য লোকাঃ

হসন্ত্যনা গিরিসুতা ত্বমীশম্ ।।৩।।


👉 সর্ব অঙ্গে ভস্ম মেখে , মাথায় বিশাল জটা ধারণ করেছেন ও ব্রহ্মাকপালকে ভিক্ষাপাত্র বানিয়ে হাতে ধরে অদ্ভুত এক অসংসারিক রূপে লীলার নিমিত্তে সমস্ত সংসারে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করে বেড়ান । সেই ঈশ্বরের এমন কাণ্ড দেখে গিরিরাজ কন্যা পার্বতী হাসেন ও ,


সংসারীণং নাম হসন্তি দেবী

কালেন দগ্ধং মদনং পুরস্তাৎ ।

স য়ো মুমোচোজ্জিত দৃষ্টিরগ্নিম্

স প্রক্ষমাণঃ প্রিয়য়া স্মিতদৃষ্টাত ।।৪।।


👉 হাসতে হাসতেই মজা করে দেবী তাকে "সংসারীন" বা "তুমি একজন সংসারী নাকি !" - এমন নামে ডেকে খোটা দিতে থাকেন , তখন সেই তিনিই যিনি অতীতে একবার কামদেবকে ভস্ম করেছিলেন , সেদিন যার দৃষ্টি হতে কামের বিরুদ্ধে ভীষন ক্রোধাগ্নি নির্গত হয়েছিল , সেই আবার তার প্রিয়ার স্মিতা-হাস্যরতা মুখমণ্ডলকে স্তব্ধ প্রেম দৃষ্টিতে দেখে উপভোগও করছেন । 


স শান্তমূর্তি ত্রক্ষ্যঞ্চম পরেশ

ভালেন্দু সর্বজ্ঞ মহাদেব শিবম্ ।

নমামি ভক্তিপূর্বং যং মহেশম্

যোগিপ্রিয়ং ত্রিশূলপাশ হস্তম্ ।।৫।।


👉 আমি ভক্তিপূর্বক প্রণাম করি সেই মহেশ্বরকে— যিনি শান্তমূর্তি , ত্রিনয়নযুক্ত , সর্বজ্ঞ , কপালে চন্দ্রধারী , যিনি সকল দেবতাদের আদি ও শ্রেষ্ঠ মহাদেব , যিনি মঙ্গলময় শিব ও সকল যোগীদের প্রিয় এবং যিনি হাতে ত্রিশূল ও পাশ ধারণকারী পরমেশ্বর ।


যো নাট্যরঙ্গে ভূতাদি নাথম 

বিহিতম্বশে ডমরুকনাদোন্মত্তৈঃ ।

প্রাণৈঃ সংচারিত জগতানি সর্ব

যঃ কালকূটং পীত্বা চ বিভর্তে ।।৬।।


👉 যিনি তার সৃষ্ট এই নাট্যরঙ্গমঞ্চে ( লীলাক্ষেত্র সমগ্র জগতে ) স্থিত প্রপঞ্চময় সকল তত্ত্বরূপী ভূতগণের ( পঞ্চভূত , ৬৪ তত্ত্ব , দেব , অসুর , জীব , পশু , কিট ) স্বামী ( অধিপতি ) , সমস্ত কিছুই তারই বশে , যার ডমরুবাদ্য থেকে উৎপন্ন নাদের শব্দকম্পে মোহিত হয়ে সমগ্র বিশ্বে প্রাণশক্তি সঞ্চারিত ( আন্দোলিত ) হয় ও সমগ্র জগত গতি পায় , যিনি কালকূট নামক ভয়ংকর বিষ পান করে তাকে কন্ঠে ধারণ করেন ,


বিষকণ্ঠ স নীলগ্রীব দেবঃ

দক্ষার্কবিষ্ণোর্ব্রহ্ম গণেশশক্র ।

স্মরাদিহংকার বিনাশয় যো যঃ

কৃপাঙ্কুরু ময়ি সদৈব পঞ্চবক্ত্র ।।৭।।

👉 সেই বিষকন্ঠে ধারণ করার ফলে গলা নীলবর্ণ হয়ে যাওয়া দেব নীলকন্ঠ , যিনি দক্ষ, সূর্য, বিষ্ণু, ব্রহ্মা, গণেশ, ইন্দ্র ও কামদেবের অহংকারকে বিনাশ করেছেন, সেই পঞ্চবক্ত্র শিব আমার প্রতি সদাসর্বদা তার কৃপাদৃষ্টি নিক্ষেপ করুন ।


ন স্তুতির্ন হি মে দক্ষন্ন যোগঃ 

ত্বং তত্ত্ব রূপং ন জানামি অহং ।

মাত্রেণভক্তি তুষ্টসি তস্মাৎ

শরণং গতস্ত্বং ভক্তৈকমিত্রং ।।৮।।


👉 না আমি আপনার স্তুতি করতে , না আমি আপনার ধ্যান, যোগ, পূজা-যজ্ঞ আদি কর্মে দক্ষ আর না আমি আপনার সম্পূর্ণ তত্ত্ব ও পরমদিব্য স্বরূপকেও কিঞ্চিৎ জানি, তবুও আপনি শুধু মাত্র ভক্তিতেই সন্তুষ্ট হন - এই কারণেই আমি কেবল আপনারই শরণে আগত হয়েছি , হে ভক্তের একমাত্র বন্ধু স্বরূপ আশ্রয়দাতা ।


ফলশ্রুতি :


শিবস্তুতিমাল্যাষ্টকম্ পবিত্রং

ভক্তরুদ্রনাথেন বিরচিতম ।

যং পঠতি শ্রদ্ধয়া সদান্নরঃ 

সদা ভবেৎ প্রসন্নঃ শম্ভুম ।।৯।।


👉 এই পরমপবিত্র "শিবস্তুতিমাল্যাষ্টকম" স্তোত্রটি ভক্ত রুদ্রনাথ দ্বারা রচিত । শ্রদ্ধাসহকারে যে কেউ এই স্তুতির পাঠ করে , শম্ভু সর্বদা তার ওপর প্রসন্ন থাকেন ,


পাপানি হন্ত্রি সংসারপাশনাশী

দারিদ্র্যদুঃখপ্রশমনা প্রবীণঃ ।

অন্তে দদাতি শিবঃ পরমোপদম

ভক্তপ্রিয়ঃ করুণায় নিধানঃ ।।১০।।


👉 এবং ভক্তপ্রিয় করুণার আধার ভগবান শঙ্কর ভক্তের সকল পাপ সংসারপাশ মায়া দারিদ্র্যতাদি দুঃখসমূহকে দক্ষতার সহিত নাশ করে অন্তিমকালে ভক্তকে তাঁর পরমপদ ( কৈবল্যপদ ) রূপী মোক্ষ বা নির্বাণ প্রদান করেন ।




।। ইতি শিবস্তুতিমাল্যাষ্টকম সম্পূর্ণম ।।




মূল সংস্কৃতে স্তোত্র রচয়িতা ও বাংলা ভাষায়

অনুবাদক :- শ্রীরুদ্রনাথ শৈব জী


©RudraNath_Shaiva




পোস্টটির কপিরাইট ও প্রচারে - শৈবসাহিত্য Blog




।। শিব ওঁ তৎ সৎ ।।


।। ভক্তমন্দার সদাশিবায় নমঃ ।।