সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০২৪

কল্পতরুশিবাষ্টক স্তব / Kalpatarushivastak Stava ( বাংলাভাষা পদ্যাকারে )


২৯ শে জুলাই , ২০২৪

পবিত্র শ্রাবণমাসের শুভেচ্ছা সকল সনাতনীদের 🙏


🪔কল্পতরু শিবাষ্টক স্তব ( সম্পূর্ন বাংলাভাষা পদ্যাকারে ):-

 ( মূলসংস্কৃতে রচিত কল্পতরু শিবাষ্টকম স্তোত্রের অনুপ্রেরণায় বাংলার শিবভক্তদের কথা মাথায় রেখে ও তাদের পড়বার, বোঝবার সুবিধার্থে এই কল্পতরুশিবাষ্টক স্তব নামে স্তোত্রটি  প্রথম বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে নিজের মতন করে নিজের ভাব ও কবিশৈলীর দক্ষতা  অনুযায়ী অনুবাদ ও রচনা করলাম , যেহেতু বাংলার অনেক শিব ভক্তরা রয়েছেন যারা সংস্কৃত বা হিন্দি আদি ভাষায় রচিত বা লিখিত স্তব স্তোত্র বুঝতে বা পড়তে , উচ্চারণ করতে পারেন না , তাই মাতৃভাষা বাংলাতে তাদের ও সকল বঙ্গ সনাতনীদের পড়বার বোঝবার জন্যে সহজ সরল শব্দযোগে এটির রচনা । )


 
 ভক্তবাঞ্ছাকল্পতরু ভগবান শিব ও ভগবতী পার্বতী



🚩 কল্পতরুশিবাষ্টক স্তব :- 

( সম্পূর্ন বাংলা পদ্যাকার ও বঙ্গানুবাদ সহিত )


প্রভু জ্ঞান-গুণে তুমি দয়ার সাগর

ত্রিপুর-দৈত্যনাশী ভব জ্ঞান আগর ।

নাগরাজ বাসুকিহার তোমার গলায়

কল্পতরুশিব প্রভু নমিগো তোমায় ।।১।।

👉 প্রভু ! তুমি সর্বজ্ঞ , সর্বগুণময় অত্যন্ত কৃপালু ও দয়ার সাগর , ভীষণ পরাক্রমী ত্রিপুরদৈত্যদের নাশকারী হে ভব! তোমা হতে সদজ্ঞান রূপী সুগন্ধযুক্ত চিন্তা-ভাবনা সমগ্র সংসারে বিস্তার লাভ করে , নাগরাজ বাসুকি তোমার গলার কণ্ঠভূষণ , সেই সকলের কামনা পূর্ণকারী প্রভু শিব তোমাকে প্রণাম করি । 

 বামঙ্গে তোমার বিরাজে গো উমা

অঙ্গেরো জ্যোতি কোটি-চন্দ্র সমা ।

বিধি-বিষ্ণু ধরেন তব চরণো মাথায়

কল্পতরুশিব প্রভু নমিগো তোমায় ।।২।।

👉 তোমার শরীরের বামভাগে জগৎজননী দেবী উমা বিরাজেন যাহার অঙ্গের জ্যোতি কোটি কোটি চন্দ্রের স্নিগ্ধজ্যোতি প্রকাশের সমান উজ্জ্বল , ব্রহ্মা-বিষ্ণু সদা তোমার চরণযুগলকে নিজ নিজ মস্তকের ওপর ধারণ করে থাকেন , সেই সকলের কামনা পূর্ণকারী প্রভু শিব তোমাকে প্রণাম করি । 

অর্ধচন্দ্র ধরো নিজ শিরো মুকুটে

মৃগ-গজচর্ম যে শোভে কটিতটে ।

মন্দাকিনী স্থিত তব স্নিগ্ধজটায় 

কল্পতরুশিব প্রভু নমিগো তোমায় ।।৩।।

👉 দক্ষের অভিশাপে ক্ষয়রোগোগ্রস্থ হওয়া চন্দ্রদেব মৃত্যু থেকে রক্ষার জন্যে তোমার শরণ নিলে তুমি মৃত্যুভয়েভীত পীড়িত চন্দ্রকে রক্ষা করে অভয় দিতে সদা-সর্বদার জন্যে নিজের শিরজটে ধারণ করেছো , ভক্ত গজাসুরের অসুরত্ব বিনাশ করেও ভক্তিবশে তুমি সেই গজের ও মৃগয়া মৃত হরিণের চর্মকেও নিজের কটিতটের আবরণ ( বসন ) বানিয়েছো , দেবী গঙ্গা তোমার জটায় স্থিত হওয়ার ফলেই গঙ্গা পাপনাশিনী ও পরমাপবিত্র হয়ে জগতের পাপ ও দুঃখ হরন করতে সক্ষম হয়েছেন ,সেই সকলের কামনা পূর্ণকারী প্রভু শিব তোমাকে প্রণাম করি । 

ত্রিনয়ন শোভে শিব তুমি যে ঈশান

ভানু-চন্দ্রকোটি তব সম্মুখে ম্লান ।

তবুও শশিখণ্ডকে রেখেছো মাথায়

কল্পতরুশিব প্রভু নমিগো তোমায় ।।৪।।

👉 তুমি ত্রিনেত্রধারী প্রভু ও তুমি শ্রেষ্ঠ ঈশ্বর , কোটি কোটি সূর্য ও চন্দ্রের উজ্জ্বল জ্যোতি-প্রকাশ তোমার সৌম্য-শিবমূর্তিধারী দেহতেজের সম্মুখে স্মিত ও ম্লান হওয়া সত্ত্বেও সমুদ্রমন্থন থেকে উত্থিত চন্দ্রদেব যখন অমৃতভাণ্ডকে অসুরগণ থেকে বাঁচিয়ে নিজের রক্ষার্থে কৈলাসে তোমার শরণে আসেন তখন তার ভীতাবস্থা দেখে তুমি কৃপাবশত পুনরায় চন্দ্রদেবকে নিজের জটাতে স্থান দিয়ে তাকে অভয় প্রদান করো ও চন্দ্রের মহিমাকে বাড়িয়ে তোলো , সেই সকলের কামনা পূর্ণকারী প্রভু শিব তোমাকে প্রণাম করি । 

হে আদিগুরু শ্বেত-বৃষভ বাহন 

কালকূট কণ্ঠরোধী আর্তিনাশন ।

বরাভয় শূল-ডমরু পিনাকধরায়

কল্পতরুশিব প্রভু নমিগো তোমায় ।।৫।।

👉 হে শিব ! তুমি দেব-দানব-জীব সকলেরই একমাত্র আরাধ্য ও দেব-দানব-জীব আদি সকলের গুরুর গুরু তথা আদিগুরু , সত্য-দয়া-শৌচ-তপঃ-আদি ধর্মের মূল চারটি পদযুক্ত সাক্ষাৎ ধর্মস্বরূপ বৃষভ শুভ্রবর্ণদেহী (শ্বেত) মহাবলশালী নন্দী (ভগবান নন্দীকেশ্বর) তোমার বাহন , সমুদ্রমন্থন কালে যে কালকূট নামক ভয়ংকর সর্বগ্রাসী বিষ উত্থিত হয়ে জীব-দেবাসুরাদি সকলকে বিনাশ করছিলো তখন নীলকন্ঠ স্বরূপে তুমি সেই বিষকে নিজ কন্ঠে ধারণ করে জগতকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করো ও সকলের আর্তি বিনাশ করো , তুমি বর- অভয়-ডমরু-ত্রিশূল ও পিনাক ধনুককে হাতে ধারণ করো , সেই সকলের কামনা পূর্ণকারী প্রভু শিব তোমাকে প্রণাম করি । 

মদমত্ত মদনকে করেছো মর্দন

নরসিংহ চর্ম তোমার অঙ্গবসন ।

প্রমথগণে সদা রত তোমার সেবায়

কল্পতরুশিব প্রভু নমিগো তোমায় ।।৬।।

👉নিজের কামবান দ্বারা সকলকে কামনায় জর্জরিত করে সকলকে নিজবশে করা কামদেব নিজোশক্তিবলে অহংকারী হয়ে তোমাকেও কামনায় আবদ্ধ করতে গেলে তুমিই তার অহংকারকে বিনাশ করে তাকে ভস্ম করেছিলে , আবার নরসিংহরূপী বিষ্ণুও নিজ শক্তিবলে অহংকারী হোলে , তৎক্ষণাৎ তুমি শরভরূপে বিষ্ণুর অহংকার চূর্ণকরে সেই নরসিংহ বিষ্ণুর চর্মকে নিজের অঙ্গবসন রূপে ধারণ করেছিলে , কার্তিক-গণেশ-নন্দী-ইন্দ্রাদী শ্রেষ্ঠরা সর্বদা গণরূপে তোমার সেবায় নিযুক্ত থাকেন , সেই সকলের কামনা পূর্ণকারী প্রভু শিব তোমাকে প্রণাম করি । 

করো মূর্তি ধরে লয়োস্থিতিসৃজন 

ইন্দ্র-যম-কুবেরাদি তোমারই শরণ ।

মুক্তি পায় জীবসব তোমার কৃপায়

কল্পতরুশিব প্রভু নমিগো তোমায় ।।৭।।

👉 ব্রহ্মা-বিষ্ণু-রুদ্র এই ত্রিদেবমূর্তি বা স্বরূপ ধারণ করে তুমি জগতের সৃষ্টি-পালন ও সংহার কার্য সম্পাদন করো , দেবতাদের রাজা ইন্দ্র , কালস্বরূপ মৃত্যুদেবতা যম ও সকল ধন-সম্পত্তির রক্ষক যক্ষরাজ কুবের -এনারাতো সর্বদা তোমারই আশ্রয়ে থাকে , দেবতা আদি অসুর-মনুষ্য-ক্ষুদ্রকীট-তৃণ সকলকিছুই তোমার কৃপাতেই সংসার বন্ধন থেকে মুক্তি পায় ,সেই সকলের কামনা পূর্ণকারী প্রভু শিব তোমাকে প্রণাম করি । 

দীনজনোনাথে করো দয়া বর্ষন

হরো পাপকর্ম মোর জনম মরণ ।

ভক্তের করো নাশ দুখ-ক্লেষাদিভয় 

কল্পতরুশিব প্রভু নমিগো তোমায় ।।৮।।

👉 যে দীনজন , যাহার কেউ নেই অনাথ তাদের প্রতি তুমি সর্বদায় দয়া , কৃপা , স্নেহের বর্ষন করো , তাহলে আমার পাপকর্ম গুলিকে হরণ করে জন্ম-মৃত্যুর অনন্তচক্র হতে আমাকে নিস্তার দাও , সর্বদায় তো তুমি তোমার ভক্তের দুঃখ-শোক-ক্লেশ-ভয়কে বিনাশ করো , সেই সকলের কামনা পূর্ণকারী প্রভু শিব তোমাকে প্রণাম করি । 


ফলশ্রুতি -

পরমব্রহ্ম সনাতন শম্ভু পরাৎপর

দেবোদেব মহাদেব হে পরম-ঈশ্বর ।

ভক্তিতে গদোগদ হয়ে প্রভু হে আমি 

বাধি তব মহিমা মোরে ক্ষমিয়ো তুমি ।।৯।।

ভক্তিভরে যেবা ইহা পাঠ শ্রবণ করে 

সাক্ষী আমি শিব তার সব পাপ হরে ।

ইতি কল্পতরু শিবাষ্টক হইলো সমাপ্ত 

শিব শিব ধ্বনি দাও মিলেসব ভক্ত ।।১০।।

👉 হে পরমব্রহ্ম ! সে সনাতন পুরুষ শম্ভু ! হে পরাৎপর ! হে সকল দেবতাদের আদিদেব মহাদেব ! হে পরমেশ্বর ! আমি ভক্তিভাবে অজ্ঞানবশত গদ-গদচিত্তে তোমার অপার মহিমা ও অনন্ত গুণকে না জেনেও আমার লেখনীর মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করে তোমার মহিমা ও গুণকে সীমাবদ্ধ করবার যে ধৃষ্টতা করেছি , তারজন্যে তুমি আমাকে ক্ষমা কোরো হে প্রভু । তবে যদি ভক্তিভরা-চিত্তে যে কেউই এই স্তোত্রটির পাঠ বা শ্রবণ করে , তোমার (শিবের) আশীর্বাদে সে সকল পাপ তাপ কর্ম হতে তরে / মুক্ত হয় , আমি নিজেই ( রুদ্রনাথ ) এর সাক্ষী-প্রমাণ ।  এখানেই কল্পতরু শিব স্তোত্রটি সমাপ্ত হোলো , সকল ভক্তবৃন্দ অন্তিমে শিব শিব ধ্বনি দাও আর বলো -   "নমঃপার্বতীপতয়ে শিব হর হর হর মহাদেব" 

 

ইতি শ্রী কল্পতরুশিবাষ্টকস্তব সমাপ্ত হোলো। 


স্তোত্রটির বাংলা পদ্যাকার ভাষায়

অনুবাদক ও রচয়িতা :-  শ্রীরুদ্রনাথ শৈব জী

©RudraNath_Shaiva


পোস্টটির কপিরাইট ও প্রচারে - শৈবসাহিত্য Blog 


।।  শ্রীগুরু দক্ষিণামূর্তয়ে নমঃ ।।

।। সদাশিবম ভজাম্যাহম ।।









রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪

পাপমর্দন গুরু স্তোত্রম / papmardan Guru Stotram


২১ শে জুলাই , ২০২৪

 সকল সনাতনীদের গুরুপূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানাই 🚩🙏


 🪔 পাপমর্দন গুরু স্তোত্রম  : -

( বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে ও গুরুগীতা থেকে কিছু শ্লোক সংগ্রহ করে ও নিজের কয়েকটি সংস্কৃত শব্দ ও শ্লোক যুক্ত করে সংক্ষিপ্তকরণ রূপে "পাপমর্দন গুরু স্তোত্রম" নামকরণের দ্বারা এটিকে সকলের পাঠের সুবিধার্থে রচনা করে বাংলায় প্রকাশিত করা হোলো ।  )



শ্রীশ্রী "উম্মুক্তেশ্বর মহাদেব" শিববিগ্রহ


অথঃ স্তোত্রম  

( সম্পূর্ন বঙ্গানুবাদ সহিত )


গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণুঃ গুরুর্দেবো মহেশ্বরঃ ।

গুরুর্সাক্ষাৎ পরমশিব তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ ।।১।।

👉 গুরু ব্রহ্মা, গুরু বিষ্ণু, গুরুদেব মহেশ্বর , যিনি পরমগুরু স্বয়ং শিবস্বরূপ  , সেই গুরুকে নমস্কার।১

অখন্ডমন্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরম্ ।

তত্পদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ ।।২।।

👉  সম্পূর্ন ব্রহ্মাণ্ড যাহার ( ব্রহ্ম ) অখণ্ডিত বিরাট স্বরূপ  , যিনি সমগ্র বিশ্ব-চরাচরেই ব্যাপ্ত ও বিরাজিত , যিনি সেই চিন্ময় সত্য সনাতন ব্রহ্মের দর্শন বা সান্নিধ্য ( উপলব্ধি ) করান  , সেই গুরুকে নমস্কার ।২

অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাংজনশলাকয়া ।

চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ ।।৩।।

👉যিনি অজ্ঞানরূপী অন্ধকারের প্রভাবে অন্ধ হওয়া ( নিমজ্জিত ) জীবকে জ্ঞানের প্রকাশের মাধ্যমে সত্যের প্রতি চক্ষু উন্মীলিত করান  বা করতে সহায়তা করেন  , সেই গুরুকে নমস্কার।৩

ধ্যানমূলম গুরুর্মূর্তি পূজামূলম গুরুর্পদম ।

মন্ত্রমূলম গুরুর্বাক্যং মোক্ষমূলম গুরুর্কৃপা ।।৪।।

👉 যেই শ্রীগুরুদেবের মূর্তি ( স্বরূপই ) ধ্যানের যোগ্য ( মূল ) , তাহার পদযুগলদ্বয় পূজার যোগ্য ও তাহার ( শ্রীগুরু ) বাক্য / বানী সাক্ষাৎ বেদবাক্য/ মন্ত্রসমান , সেই সদগুরু শ্রীগুরুদেবের কৃপায় ( আশীর্বাদ ) সাক্ষাৎ মোক্ষলাভের সমান ।৪

শিবোদেবঃ শিবোবন্ধুঃ শিবোসাক্ষাৎ পরমগুরুঃ ।

শিবাত্মন পরমাত্মন শিবোজীবস্য কল্পতরুঃ ।।৫।।

👉 শিবই ( জীবের ) একমাত্র দেবতা, শিবই ( জীবের ) একমাত্র বন্ধু, শিবই সাক্ষাৎ পরমগুরু , শিবই সকল জীবের অন্তরস্থ আত্মা ও পরমাত্মা, শিবই জীবের সকল ইচ্ছে কামনা-বাসনা পূর্ণকারী কল্পবৃক্ষ ।৫

বিনা সদাশিবং যো হি সংসারঃ তর্তুমিচ্ছতি ।

স মূঢ়াজ্ঞান হি মহাপাপী শিবদ্বেষী ন সংশয়ঃ ।।৬।।

👉 যে ( জীব ) সদাশিবের পূজা-অর্চনা-ভজনা ছাড়া সংসার থেকে মুক্ত হতে চায় , সেই জীব নিশ্চয়ই মূঢ়-অজ্ঞানী, মহাপাপী ও শিবদ্বেষী এতে কোনো সন্দেহ নেই ।৬

শিবেবমাতশ্চ পিতাশিবেব শিবেববন্ধুশ্চ সখাশিবেব ।

শিবেববিদ্যা দ্রবিডংশিবেব শিবেবকেবল মমমিষ্টদেব ।।৭।।

👉 শিবই মাতা , শিবই পিতা , শিবই বন্ধু , শিবই সখা , শিবই বিদ্যা , ধনসম্পত্তি - এমন চিত্তযুক্ত আমার কাছে সেই শিবই আমার একমাত্র আরাধ্য / ইষ্টদেব ।৭

দেব স্থানে কৃতংপাপং ব্রহ্মা স্থানে বিনাশ্যতে ।

ব্রহ্মা স্থানে কৃতংপাপং বিষ্ণু স্থানে বিনাশ্যতে ।।৮।।

👉 ইন্দ্রাদি দেবতাদের স্থানে( মন্দিরালয়ে ) কৃত পাপ ( ভুল ত্রুটি ) ব্রহ্মার স্থানে( মন্দিরালয়ে ) বিনষ্ট হয় , ব্রহ্মার স্থানে( মন্দিরালয়ে ) কৃত পাপ ( ভুল ত্রুটি )  বিষ্ণুর স্থানে( মন্দিরালয়ে )  বিনষ্ট হয় ।৮

বিষ্ণু স্থানে কৃতংপাপং শিব স্থানে বিনাশ্যতে ।

শিব স্থানে কৃতংপাপং গুরু স্থানে বিনাশ্যতে ।।৯।।

👉 বিষ্ণুর স্থানে( মন্দিরালয়ে ) কৃত পাপ ( ভুল ত্রুটি ) শিবের স্থানে( মন্দিরালয়ে ) বিনষ্ট হয় , শিবের স্থানে( মন্দিরালয়ে ) কৃত পাপ ( ভুল ত্রুটি ) গুরুর স্থানে( আশ্রম / সান্নিধ্যে ) বিনষ্ট হয় ।৯

গুরু স্থানে কৃতংপাপং নাস্তি স্থানে বিনাশ্যতে ।

য গুরুঃ স শিবস্তি তত্ত্বংনাস্তি এতেভ্য পরোঃ ।।১০।।

👉 গুরুর স্থানে( সান্নিধ্যে ) কৃত পাপ ( ভুল ত্রুটি ) গুরু বিনা আর কারোর দ্বারা বিনষ্ট / নাশ / হরণ করা সম্ভব নয় কারণ , যিনি গুরু তিনিই তো শিব, একই তত্ত্বের স্বরূপ হলেন শিব ও গুরু আর এই সত্যের চেয়ে বড় কিছু নেই ।১০

দক্ষিণদিশস্থিতঃ ভগবান্ শিবঃ যা মূর্তিরূপেণ সপ্তর্ষীণাম্ ।

অজ্ঞানং বিনাশ্য তেষাং সর্বপ্রথমং অনন্তজ্ঞানং প্রদত্তবান্ সেবঃ।।১১।।

👉 তাই দক্ষিণদিকে বসে ভগবান শিব যেই মূর্তিতে সপ্তর্ষিদের অজ্ঞানতা দূর করে তাদের সর্বপ্রথম অনন্তজ্ঞান প্রদান করেছিলেন ,১১

দক্ষিণামূর্তি শিবস্বরূপঃ মম গুরুদেৱোপি মমপাপেন্ অজ্ঞাননশ্চ ।

-নাশয়িত্বা মম শিবজ্ঞানরূপেণ অমৃতং প্রদায় কৃতার্থং করোতু মে।।১২।।

👉 সেই দক্ষিণামূর্তি শিবস্বরূপ আমার গুরুদেব আপনিও আমার ভুল ত্রুটি আদি অজ্ঞানতাকে নাশ ( মার্জনা ) করে আমাকে শিবজ্ঞানরূপী অমৃত প্রদান করে কৃতার্থ করুন ।১২

ফলশ্রুতি -

য গুরুস্তোত্রং নিত্যং নিজগুরুং মনস স্মরণ্তং ।  

শিবসমক্ষে পঠেৎ সঃ ইহসংসারস্য দুঃখস্য চ ।।১৩।।

ভববন্ধনস্য চ মোক্ষং প্রাপ্নোতি অনন্তকালম ।  

পরমগুরু শিবস্য সন্নিধিং সদাপ্রিয়ঃ ভবেন্নঃ ।।১৪।।

👉 এই গুরু স্তোত্রম যে নিত্য নিজগুরুকে মনে স্মরণ করে শিবসম্মুখে পাঠ করেন , তিনি ইহসংসারের দুঃখ ও ভববন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে অনন্তকাল যাবৎ পরমগুরু শিবের সান্নিধ্যে সদা তাহারপ্রিয় হয়ে স্থিত থাকেন । ১৩-১৪


 ইতি পাপমর্দন গুরু স্তোত্রম সম্পূর্ণম ।


স্তোত্র রচয়িতা :- শ্রীরুদ্রনাথ শৈব জী

©RudraNath_Shaiva


পোস্টটির কপিরাইট ও প্রচারে - শৈবসাহিত্য Blog 


।। নমঃ শ্রীগুরু দক্ষিণামূর্তয়ে নমঃ ।।

।। সদাশিবম ভজাম্যাহম ।।