বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪

শ্রীভৈরবাষ্টক / Shri Bhairavastak ( বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে )


২৬ সে নভেম্বর , ২০২৪ 

জয় শ্রী বাবা কালভৈরব 🙏🚩


🪔 শ্রীভৈরব অষ্টক ( সম্পূর্ন বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে  রচিত ):- 


( মূলসংস্কৃতে রচিত শিবরহস্যপুরাণ মহাইতিহাস শাস্ত্রের অন্তর্গত কালভৈরবাষ্টকম স্তোত্রের অনুপ্রেরণায় বাংলার শিবভক্তদের কথা মাথায় রেখে ও তাদের পড়বার বোঝবার সুবিধার্থে এই  শ্রীভৈরব অষ্টক স্তোত্রটি  প্রথম বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে নিজের মতন করে নিজের ভাব ও কবিশৈলীর দক্ষতা  অনুযায়ী অনুবাদ ও রচনা করলাম , যেহেতু বাংলার অনেক শিব ভক্তরা রয়েছেন যারা সংস্কৃত বা হিন্দি আদি ভাষায় রচিত বা লিখিত স্তব স্তোত্র বুঝতে বা পড়তে , উচ্চারণ করতে পারেন না , তাই মাতৃভাষা বাংলাতে তাদের ও সকল বঙ্গ সনাতনীদের পড়বার বোঝবার জন্যে সহজ সরল শব্দযোগে এটির রচনা । )


শ্রীশ্রী শিবাবতার প্রভু কালভৈরব 



🚩শ্রীভৈরব অষ্টক স্তোত্রম ( বাংলা ভাষায় ):-


( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় পদ্যকার ও বঙ্গানুবাদ সহিত )



ব্রহ্মা-ইন্দ্র সদা যাহার পরে থাকেন চরণতলে 

জটাতে চন্দ্রমা যাহার সর্পমাল ঝোলে গলে ।

নারদাদী ঋষি যাহার গুণ-গান করেন সদায়

সেই কাশীপুরনায়ক ভৈরব কৃপা করুক আমায় ।।১।।

👉 ব্রহ্মা , ইন্দ্রাদি দেবতা সদা যার চরণাশ্রয়ে থাকেন ও চরণসেবা করেন , জটায় চন্দ্র ও গলায় নাগরাজ বাসুকির মালা যার আভূষণ , নারদ-শারদ আদি দেবর্ষিগণ অনবরত যার গুণ কীর্তি যশ গায়ন করে থাকেন , সেই কাশীপুরীর অধিপতি ভগবান কালভৈরব আমার প্রতি সদয় হয়ে কৃপা করুক । 


ভোগ-মোক্ষ-মুক্তি দেন যিনি অসীম করুণাময়

ভক্তিতে বদ্ধহন তিনি ভক্তের নিরাপদ আশ্রয় ।

ধর্মধ্বনি ঘন্টিকা যাহার কোমরবন্ধে শোভা পায়

সেই কাশীপুরনায়ক ভৈরব কৃপা করুক আমায় ।।২।।

👉 যিনি ভক্তের ভক্তিতে আবদ্ধ হয়ে অসীম দয়াপরায়ন বশত ভোগ মুক্তি মোক্ষ প্রদান করে থাকেন , যিনি তার ভক্তদের নিকট একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল , ধর্মের ধ্বনিরূপী ঘণ্টার মালা যার কোমরে কোমরবন্ধ রূপে শোভা পায় , সেই কাশীপুরীর অধিপতি ভগবান কালভৈরব আমার প্রতি সদয় হয়ে কৃপা করুক । 


কোটি সূর্য-গ্রাসী যিনি ভবের পাশ নাশ করেন

সকল বাঞ্ছাপূরক ত্রিলোচন কন্ঠে বিষ ধরেন ।

করাল যাহার সম্মুখে কাল স্বয়ং মাথা ঝোকায় 

সেই কাশীপুরনায়ক ভৈরব কৃপা করুক আমায় ।।৩।।

👉 সহস্র সূর্যের তেজকে গ্রাস / ম্লান করে দেন এমন তেজোময় দেহযুক্ত যিনি সকলকে ভবসংসার পাশ থেকে মুক্ত করেন , যিনি সকলের সর্ব ইচ্ছা পূর্ণকারী , সর্বদা ত্রিনেত্র যার মুখমণ্ডলের শোভা বৃদ্ধি করে ও কন্ঠে ভীষণ হলাহল বিষকে ধারণ করেন , যিনি কালের কাল ও যার ভীষণ ভয়ংকর বিকরাল স্বরূপ দেখে স্বয়ং কাল / মৃত্যুও তার সম্মুখে মাথা নত করে , সেই কাশীপুরীর অধিপতি ভগবান কালভৈরব আমার প্রতি সদয় হয়ে কৃপা করুক । 


ত্রিশূল-পাশ-দণ্ড-পরশু ধরেও যিনি দেন অভয় 

যিনি সৌম্যরূপী আদিদেব সর্বসাক্ষী নিরাময় ।

বিচিত্র-তাণ্ডবপ্রিয় বিকরাল তিনিই ভীমকায় 

সেই কাশীপুরনায়ক ভৈরব কৃপা করুক আমায় ।।৪।।

👉 যিনি হাতে ত্রিশূল কালপাশ ধর্মদন্ড ও পরশু ধারণ করা সত্ত্বেও ভক্তদের অভয় প্রদান করেন , যিনি সর্বাত্মক , সকলের আদি দেবতা , সমস্ত কিছুর একমাত্র সাক্ষী ও শান্ত সৌম্য , যিনি সুন্দর ও ভিন্ন তাণ্ডবাদি নৃত্যপ্রিয় , আবার যিনি ভীষণ ভয়ংকর ও বৃহৎ হতেও বৃহৎ , সেই কাশীপুরীর অধিপতি ভগবান কালভৈরব আমার প্রতি সদয় হয়ে কৃপা করুক । 


মণিরত্নময় পদ যাহার বিষ্ণু রত চরণ সেবায়

যিনি নিত্য-ব্রহ্ম অদ্বিতীয় ইষ্ট পূর্ণ-জগন্ময় ।

যাহার দন্তিকা ঘর্ষণ রোষে যম-শমন দূরে পালায়

সেই কাশীপুরনায়ক ভৈরব কৃপা করুক আমায় ।।৫।।

👉 মহামূল্যবান অনেকাদি রত্নমণ্ডিত সুন্দর যার পদযুগলকে নিত্য ভগবান বিষ্ণু সেবা করেন , যিনি শাশ্বত অজর পরমব্রহ্ম সকলের একমাত্র আরাধ্য , স্বয়ং সম্পূর্ণ ও চরাচর সকল জগতে একমাত্র ব্যাপ্ত , ক্রোধে যার দাঁতের ঘর্ষণ থেকে উৎপন্ন ( ভয়ংকর ধ্বনি ) শব্দ-কম্পনের ভয়ে যম ও কালপুরুষ পলায়ন করে , সেই কাশীপুরীর অধিপতি ভগবান কালভৈরব আমার প্রতি সদয় হয়ে কৃপা করুক । 

ধর্মের প্রতি সদয় হয়ে অধর্ম-কর্ম নাশ করেন 

কর্ম-চক্র-নাশী যিনি অকাল-মৃত্যুকেও হরেন ।

স্বর্ণ-বর্ণ শরীর যাহার মন্দাকিনী বাধা জটায় 

সেই কাশীপুরনায়ক ভৈরব কৃপা করুক আমায় ।।৬।।

👉 যিনি অধর্ম কুকর্ম বিনাশ করে ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করেন , আবার জীবকে তার কর্মচক্রের পাশ থেকে মুক্ত করেন ও ভক্তের অকাল মৃত্যুকে হরণ করেন , যার অঙ্গ স্বর্ণের মতন ভীষণ উজ্জ্বল বর্ণের ও জটায় দেবী গঙ্গাকে যিনি তার বিশাল জটার মধ্যে বেধে রেখেছেন , সেই কাশীপুরীর অধিপতি ভগবান কালভৈরব আমার প্রতি সদয় হয়ে কৃপা করুক । 


যাহার অট্টহাস শব্দকম্পে ব্রহ্মাসৃষ্টি কেঁপে যায়

উগ্র-কটাক্ষ দৃষ্টিপাতে সকল পাপ বিনাশ হয় ।

যিনি সর্ব সিদ্ধিদাতা বিভু মুণ্ডমাল পরেন গলায় 

সেই কাশীপুরনায়ক ভৈরব কৃপা করুক আমায় ।।৭।।

👉 যার ভীষণ অট্টহাসি থেকে উৎপন্ন শব্দকম্পনের ভয়ে ব্রহ্মাদি সৃষ্টি সমস্ত কিছু কম্পিত হয় , যার উগ্র ভীষণ ও বিকট দৃষ্টির প্রভাবে সকল অধর্ম / অশুভ ও পাপের বিনাশ হয় , যিনি সকলকে সমস্ত সিদ্ধি বুদ্ধি জ্ঞান প্রদান করেন সেই বিভু যিনি কল্পান্তে পঞ্চত্ব প্রাপ্ত ব্রহ্মা বিষ্ণু ও ইন্দ্রের কপাল বা মুন্ডকে মালা রূপে নিজের গলায় ধারণ করেন , সেই কাশীপুরীর অধিপতি ভগবান কালভৈরব আমার প্রতি সদয় হয়ে কৃপা করুক । 


ভূত প্রমথনাথ প্রভো কীর্তি-যশ প্রদান করেন

কাশীপুরে স্থিত ভক্তে পাপ-শাপ-তাপ হরেন ।

জগতকে সদা যিনি সৎ ধর্মনীতির মার্গ দেখায় 

সেই কাশীপুরনায়ক ভৈরব কৃপা করুক আমায় ।।৮।।

👉 যিনি ভূত প্রেত আদি অনেক শ্রেষ্ঠগনের স্বামী / প্রভু , সকলকে যিনি মহান যশ - কীর্তি প্রদান করেন , কাশীপুরীতে বসবাসকারী ভক্তের সকল পাপ তাপ ও শাপ হরণ করেন ও যিনি সমগ্র জগতকে সত্য ধর্ম ও সদনীতির মার্গ দেখান , সেই কাশীপুরীর অধিপতি ভগবান কালভৈরব আমার প্রতি সদয় হয়ে কৃপা করুক । 

( শ্রুতি )

ভৈরবের এই স্তুতি যে নিত্যদিন করেন শ্রবণ 

জ্ঞান মুক্তি পূণ্য লভে তরে যায় সংসার বন্ধন ।

পাপ তাপ রোগ শোক দুঃখ ভয় বিনাশ হয়

অন্তে ভৈরবধাম যায় এতে কোনো সংশয় নয় ।।৯।।

👉 ভগবান কালভৈরবের এই স্তুতি যে নিত্যদিন কেবল শ্রবণ মাত্র করে , সে অনন্ত জ্ঞান মুক্তি ও পূণ্য লাভ করে ও তার সকল পাপ রোগ দুঃখ-শোকাদি ভয়ের বিনাশ হয়ে এই ভব-সংসারের বন্ধন হতে মুক্ত হয়ে যায় ও অন্তিমে ভগবান শিবের ( কালভৈরবের ) ধামে তার স্থান হয় , এতে কোনো সংশয় নেই ।


ফলশ্রুতি:-

কালাষ্টমী তিথি জেনে মাস অগ্রহায়নে 
রচেন রুদ্রনাথ ইহা একোত্তিশেরো সনে ।
ভক্তিতে এই স্তুতি যেবা সদা করেন পাঠ
সকল ইচ্ছে পূর্ণ হয় কাটে সকল সংকট ।।

👉 কালাষ্টমী তিথি উপলক্ষ্যে বাংলা সাল সন ১৪৩১ এর অগ্রহায়ণ মাসে রুদ্রনাথ এটির রচনা করলেন । তাই যে কেউই ভক্তিভাবে এই স্তবটি পাঠ করবে , তার সকল সংকট নাশ হবে ও সকল মনস্কামনা পূর্ণ হবে ।


ইতি শ্রীভৈরব অষ্টক সম্পূর্ন হোলো ।।



এই স্তোত্রটির বাংলা পদ্যাকার ভাষায়

অনুবাদক ও রচয়িতা :- শ্রীরুদ্রনাথ শৈব জী

©RudraNath_Shaiva


পোস্টটির কপিরাইট ও প্রচারে - শৈবসাহিত্য Blog 


।। শ্রীগুরু দক্ষিণামূর্তয়ে নমঃ ।।

।। সদাশিবম ভজাম্যাহম ।।