৮ই জুলাই , ২০২৫
ॐ ভাম ভৈরবায় নমঃ 🚩
🚩 শ্রীভৈরব করুণার্ঘ্যাষ্টক স্তব ( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে রচিত ) : -
( মূলত সংস্কৃতে রচিত ভৈরব তাণ্ডব স্তোত্র নামক একটি স্তুতির সুন্দর শব্দছন্দের অনুপ্রেরণায় বাংলার শিবভক্তদের কথা মাথায় রেখে ও তাদের পড়বার, বোঝবার সুবিধার্থে এই শ্রীভৈরব করুণার্ঘ্যাষ্টক স্তব নামে স্তোত্রটি প্রথম বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে নিজের মতন করে নিজের ভাব ও কবিশৈলীর দক্ষতা অনুযায়ী অনুবাদ ও রচনা করলাম , যেহেতু বাংলার অনেক শিব ভক্তরা রয়েছেন যারা সংস্কৃত বা হিন্দি আদি ভাষায় রচিত বা লিখিত স্তব স্তোত্র বুঝতে বা পড়তে , উচ্চারণ করতে পারেন না , তাই মাতৃভাষা বাংলাতে তাদের ও সকল বঙ্গ সনাতনীদের পড়বার বোঝবার জন্যে সহজ সরল শব্দযোগে এটির রচনা । )
শাস্ত্রে এই স্তোত্রটির সৃষ্টির প্রেক্ষাপট কাহিনী অনুযায়ী , সৃষ্টির প্রারম্ভের সময়কালে একদা ভগবান ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মধ্যে নিজ নিজ শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদনের এক বিরাট দ্বন্দ্ব যুদ্ধ শুরু হয় যা ক্রমশ সৃষ্টি বিধ্বংসকারী রনভূমিতে পরিণত হয় । এমতাবস্থায় ইন্দ্রাদি দেবতা ঋষি মুনি সকলেই সৃষ্টির রক্ষার্থে ও ব্রহ্মা বিষ্ণুকে রুখতে কৈলাসে ভগবান শিবের শরণাপন্ন হোলে , ভগবান শিব দেবতাদের আর্তি শুনে জগত রক্ষার্থে ব্রহ্মা বিষ্ণুর মধ্যে তৎক্ষণাৎ অনাদি অনন্ত স্বরূপে অগ্নিলিঙ্গ শরীর ধারণ করে স্থিত হন । সেই লিঙ্গমূর্তির একসহস্র দিব্যবর্ষেও অন্ত না পাওয়ায় বিষ্ণুর শ্রেষ্ঠত্বের অভিমান তৎক্ষণাৎ চূর্ণ হোলেও ব্রহ্মা একাদশ সহস্র দিব্যবর্ষ আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান সেই লিঙ্গের আদি খুঁজতে , অন্তিমে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের লালসায় ভগবান ব্রহ্মা কেতকী পুষ্প ও গোমাতার মিথ্যা সাক্ষী এনে সেই লিঙ্গমূর্তি ও ভগবান বিষ্ণুর সম্মুখে স্থিত করেন এবং নিজেকেই বিষ্ণু তথা সেই লিঙ্গমূর্তি হতেও শ্রেষ্ঠ , অহংকারে এমন মিথ্যা বাদন করতে থাকেন । তৎক্ষণাৎ চতুর্মুখী ব্রহ্মার অহংকার থেকে উর্দ্ধমুখী দিকে সৃষ্টি হোলো পঞ্চমমস্তক যাতে ব্রহ্মার অহংকার দ্বেষ মিথ্যা ভাষণ অধিক মাত্রায় বেড়ে গেলো । সেই অসহনীয় দাম্ভিকতা দেখে লিঙ্গমূর্তি হতে ভগবান শিব পুনরায় নিজের সাকার রূপ ধারণ করলেন ও ব্রহ্মার অহংকার বিনাশ করতেই নিজের অন্তঃশক্তি হতে বিভৎস বিকট স্বরূপ কালভৈরবকে প্রকট করলেন । প্রকট হওয়া মাত্রই কালভৈরবের প্রথম হুংকারে ব্রহ্মা বিষ্ণুর সকল অজ্ঞানতা , অহংকার বিনাশ হয়ে যায় , দ্বিতীয় হুংকারে ভগবান বিষ্ণু ব্রহ্মা ভয়ে প্রায় মূর্ছিতবস্থায় চলে যান , এরপর ভগবান কালভৈরব নিজের বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির নখ ভেঙ্গে ( কোনো কল্পের কাহিনী তে ডান হাতের ধারালো নখের অগ্রভাগ দিয়েই ) একটি অশি সমান ধারালো অস্ত্র রূপেই ব্যবহার করে ব্রহ্মার পঞ্চম মস্তককে ছিঁড়ে / কেটে ফেলেন । এরপর ব্রহ্মা বিষ্ণু আদি দেবতাগণ কালভৈরবের বিকরাল রৌদ্ররূপকে শান্ত করতেই হাত জোড়ে ভৈরব শিবের স্তুতি করতে শুরু করেন এবং সেই স্তুতিতে ভগবান কালভৈরব সন্তুষ্ট হন এবং সেই ছন্দের তালে নৃত্য ( তাণ্ডব ) করেন ও সকল দেবতা ও সৃষ্টিকে নানাবিধ আশীর্বাদ প্রদান । সেই স্তুতিই ভৈরব তাণ্ডব স্তোত্র নামে সংসারে বিখ্যাত হয় এবং সেই স্তুতিরই অনুপ্রেরণায় নিজের ভক্তিভাব জ্ঞান ও পদ্যাকার কাব্যিক শৈলীকতার সামর্থ্য অনুযায়ী নিজ মাতৃভাষা বাংলায় সহজ করে শ্রীভৈরব করুণার্ঘ্যাষ্টক স্তব টি রচনা করেছি ।
![]() |
| ।। পদ্মকল্পোক্তকালে ব্রহ্মোকপালধারী কালাধিরাজ ভগবান কালভৈরব ।। |
🚩 শ্রীভৈরব করুণার্ঘ্যাষ্টক স্তব ( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় ) : -
( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় পদ্যকার ও বঙ্গানুবাদ সহিত )
প্রভু উগ্রপ্রচণ্ড ধরে পাশ-দণ্ড করো রিপুখণ্ড হে সুখোকারী
ভক্তহিত কারক বৈরীবরারক দন্ত ভয়াল বিভো নৃত্যকারী ।
শঙ্খধ্বনি ডমরু পায়ের ওই ঘুমরু স্মিত মুখপদ্ম হাস্যকারী
ভৈরব ভূতনাথ শিব হইতে প্রকট করো কৃপা জয় কষ্টহারী ।।১।।
👉 যিনি ভীষণ উগ্র রৌদ্র স্বভাবের , হাতে পাশ দণ্ড ধারণ করে সকল রিপু বা বিকারসমূহের বিনাশ করে সুখ প্রদান করেন । যিনি ভক্তের মঙ্গলকরী তথা সকল শত্রু আদি অশুভ শক্তির বিনাশক যার দাঁতসমূহ ভীষণ তীক্ষ্ম ভয়ংকর এবং যিনি সকলের শ্রেষ্ঠ বিভু । শঙ্খের ধ্বনি ডমরুর নাদ ও পায়ে বাধা ঘুঙুর এর শব্দের ছন্দতালে তাল মিলিয়ে সর্বদা তাণ্ডব নৃত্যেরত যার স্মিত হাস্যবদন সদা ভক্তগণের মনে ও সমগ্র সংসারকে এক আলাদাই প্রশান্তি প্রদান করে , সেই ভূতের নাথ বাবা ভৈরব যিনি সকলের দুঃখ কষ্ট হরণ করতেই শিব হতে প্রকট হয়েছেন , তিনি আমায় কৃপা করুক ।
সিঁদুরলালে রঞ্জিত শত্রু সুভঞ্জিত রণভূমিতে ভীম দেহধারী
হাতে ব্রহ্মোকপাল পদঝঙ্কারতাল শুদ্ধকরে সবে ত্রিশুলধারী ।
মোক্ষের পথবন্ধু হে করুণা সিন্ধু দেবেশ্বর পাপ হরণকারী
ভৈরব ভূতনাথ শিব হইতে প্রকট করো কৃপা জয় কষ্টহারী ।।২।।
👉যুদ্ধভূমিতে বিশালাকায় বিরাট দেহধারণ করে শত্রুদলকে যিনি দক্ষতার সাথে বিনাশ করেন এবং সেই শত্রুদিগের রক্তলালে যার সম্পূর্ণদেহ রঙে সিঁদুরলাল বর্ণের বলে মনে হয় , যিনি হাতে ব্রহ্মার পঞ্চম মস্তকটি তার ভিক্ষাপাত্র বা কপালপাত্র রূপে ধারণ করে আছেন এবং যার আনন্দ নৃত্যের সময় তার পায়ের নূপুর হতে নির্গত শব্দ জগতকে সর্বদা পবিত্র করতে থাকে , তিনিই সকল দেবের অধীশ্বর যিনি তার হাতে থাকা ত্রিশূল দ্বারা সকলের পাপ অহংকার আদি বিকার হরণ বা নাশ করেন তথা যিনি করুণার পরমস্রোত ও মোক্ষপ্রার্থীদের পথের বন্ধু রূপে একমাত্র মার্গদর্শক , সেই ভূতের নাথ বাবা ভৈরব যিনি সকলের দুঃখ কষ্ট হরণ করতেই শিব হতে প্রকট হয়েছেন , তিনি আমায় কৃপা করুক ।
কলি সুবিনাশক কামোপরিশাসক কণ্ঠদেশে নাগ মাল্যধারী
পরিজনসাধু নায়ক শুদ্ধতাদায়ক নেত্রত্রয়ে কলুষতাহারী ।
বেশভূষা বিরূপ বিকরাল স্বরূপ পবিত্র দিব্য ত্রয়ী গুণধারী
ভৈরব ভূতনাথ শিব হইতে প্রকট করো কৃপা জয় কষ্টহারী ।।৩।।
👉 যিনি কলিকালের অরাজকতা অজ্ঞানতা আদি অধর্মের অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিনাশকারী এবং যিনি সকলকে নিজের বশে নাচানো কামদেবের উপরেই নিজের শাসন জমিয়েছেন এবং সকল কামনা হতে উর্দ্ধে নিজের অবস্থানকেই বোঝাতে যিনি গলায় নাগরাজ বাসুকীকে মালারূপে ধারণ করেছেন যা মূলত তার কুণ্ডলিনী শক্তির সদা জাগরণের প্রতীক । যিনি সাধু সন্ত পরিজনদের ইষ্ট তথা নায়ক , যিনি ত্রিনেত্র অগ্নি দ্বারা সকলের মনের কলুষতা কে বিনাশ করেন ও তাদের শুদ্ধতা প্রদান করেন । যার বেশভূষা সকলের থেকে আলাদা অশুদ্ধ প্রকৃতির এবং রূপ তো তার থেকেও বিকট ভয়ানক , তবুও যিনি বিশুদ্ধতা পবিত্রতার পরাকাষ্ঠা ও সত্ব রজঃ তম ত্রিগুণাদি সকল দিব্যগুণকে ধারণ করেন , সেই ভূতের নাথ বাবা ভৈরব যিনি সকলের দুঃখ কষ্ট হরণ করতেই শিব হতে প্রকট হয়েছেন , তিনি আমায় কৃপা করুক ।
অভেদ্য ত্রিশূল আশ্রয়ে জীবকূল পিণাকপাণি শিব ত্রিপুরারী
ভুতদেবাদীবেষ্টিত শান্ত অধিষ্ঠিত প্রসন্ন বদন মনোমুগ্ধকারী ।
ভক্তজন প্রীত দেহতনু অতীত হে দুঃখ বিনাশক প্রলয়কারী
ভৈরব ভূতনাথ শিব হইতে প্রকট করো কৃপা জয় কষ্টহারী ।।৪।।
👉 যার হাতে থাকা ত্রিশূল সকলের দ্বারা অভেদ্য অজেয় , যার শরণে সমস্ত জীব জগৎ আশ্রিত , যিনি পিণাক নামক ধনুক হাতে ধারণ করে সর্বপ্রথম সমগ্র জগতকে ধনুর্বিদ্যার জ্ঞান দিয়েছেন সেই শিব যিনি তারকাক্ষ , কমলাক্ষ ও বিদ্যুন্মালি নামক তিন অজেয় ত্রিপুররাজ্যের অসুর ভ্রাতাদের একটিমাত্র বাণ দ্বারা বধ করেছিলেন , সেই ত্রিপুরারী কৈলাসে প্রসন্নকান্তি বদনে শান্ত সৌম্যভাবে অধিষ্ঠিত হয়ে বসে থাকেন এবং একদিকে সকলের ত্যাজ্য ভূত প্রেত পিশাচ সমূহ অন্যদিকে জগতের পূজ্য বরিষ্ঠ দেবতাসকল তার প্রমথগণ হয়ে তাকে সর্বদা চারিদিক থেকে বেষ্টন করে রাখেন , অমঙ্গল-মঙ্গল নিকৃষ্ট-শ্রেষ্ঠ তথা ত্যাজ্য-পূজ্য সকলের সব ভেদাভেদ ভুলে একইসাথে এভাবে একই স্থানে কোনো একের সম্মুখে ভক্তিভাবে উপস্থিতির দৃশ্য মনকে আশ্চর্য তথা মুগ্ধ দুইই করে । যিনি ভক্তজনের প্রীতিভাজক , যিনি দেহ তনু মনের অতীত অগম্য , সকলের দুঃখ বিনাশকারী প্রলয়কালে ভয়ংকর ধ্বংসকর্তা , সেই ভূতের নাথ বাবা ভৈরব যিনি সকলের দুঃখ কষ্ট হরণ করতেই শিব হতে প্রকট হয়েছেন , তিনি আমায় কৃপা করুক ।
মুখপঙ্কজ বিমল শশিকলা নির্মল শ্রেষ্ঠ সকলকলা জ্ঞানধারী
লোকো হিতকারক ভয়শোকতারক জীবে সদা সুপুষ্টিকারী ।
বরদাভয় দাতা হে ভাগ্য বিধাতা বিপদ বিতাড়ক হিতকারী
ভৈরব ভূতনাথ শিব হইতে প্রকট করো কৃপা জয় কষ্টহারী ।।৫।।
👉 যার মুখমণ্ডল সদ্যোজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ কোমল , মাথায় নির্মল বাঁকা অর্ধ্বচন্দ্রের টুকরো শোভায়মান এবং যিনি সমস্ত জ্ঞান গুণ কলার ধারক বাহক ও প্রকাশক সকলের শ্রেষ্ঠ , যিনি সর্বদা চতুর্দশ ভুবন তথা ত্রিলোকের হিত সাধক , সকলের ভয় শোক নাশকারী ও সমস্ত জীবের সুস্বাস্থ্য সুআয়ু নিরোগ আদি পুষ্টি প্রদানকারী । যিনি সকলের ভাগ্যলেখক বিধাতা , সকলকে পালনকারী ধাতা , সমস্ত বিপদ বিনাশ করে বর অভয় প্রদানকারী দাতা ও অন্তিমকালে জীবের মুক্তির মার্গ প্রশস্থ করে হিতসাধনকারী ত্রাতা , সেই ভূতের নাথ বাবা ভৈরব যিনি সকলের দুঃখ কষ্ট হরণ করতেই শিব হতে প্রকট হয়েছেন , তিনি আমায় কৃপা করুক ।
সজ্জিত হাতে অস্ত্র দিক সব বস্ত্র দোষগুণ বর্জিত জটাধারী
সিদ্ধ করো কার্য শরণে সব আর্য সময় নিয়ন্ত্রক মদনারী ।
বিভূতি ললাটে কাল পাশ কাটে ধর্মাত্মাগণে সদা রক্ষাকারী
ভৈরব ভূতনাথ শিব হইতে প্রকট করো কৃপা জয় কষ্টহারী ।।৬।।
👉 যার হাত নানাবিধ অস্ত্রশস্ত্র দ্বারা সদা সুশোভিত , দশ দিক যার বস্ত্র , যিনি সকল দোষ গুণ অশুদ্ধতা পবিত্রা হতে মুক্ত ও যিনি জটা ধারণ করেন মস্তকে , মহাজ্ঞানী প্রতাপী আর্যগনেরা যার শরণ নেওয়া মাত্রই তাদের বিফলিত হওয়া কার্যও সিদ্ধ / সফল হয়ে যায় , যিনি সময় কালের নিয়ন্ত্রক ও মদনদেবের বিনাশকারী , সেই ভূতের নাথ বাবা ভৈরব যিনি সকলের দুঃখ কষ্ট হরণ করতেই শিব হতে প্রকট হয়েছেন , তিনি আমায় কৃপা করুক ।
বেদবিজ্ঞান সার চিন্তনে ভবপার সদজ্ঞান প্রদায়ক শুদ্ধবারি
কি শুভ্র বা পীত সব গুণরহিত সুরমুনিজন সদা মনোহারী ।
ভ্রুনেত্র কুটিল জটাজাল জটিল বিষয় বিমুখ যিনি সংসারী
ভৈরব ভূতনাথ শিব হইতে প্রকট করো কৃপা জয় কষ্টহারী ।।৭।।
👉 যিনি জ্ঞান বিজ্ঞান বেদ আগম শাস্ত্রের অবর্ণনীয় সারতত্ত্ব , যার চিন্তন মাত্রেই জীব ভব সংসার হতে পার হয়ে যায় , যিনি সকলের অজ্ঞান নাশ করে সদজ্ঞান প্রদানকারী তথা যিনি গঙ্গার জলের সমান পরমশুদ্ধ । যার দিব্যদেহ শ্বেত হলুদ নীল লাল আদি সমস্ত বর্ণগুণের অতীত স্বরূপ দেবতা সুধী মুনি ভক্তজনদের সদা মন চিত্তকে আপ্লুত মুগ্ধ করে , যার ভ্রু কোচকানো বিরূপ চোখগুলি দেখলেই ভয় লাগে , যার জটা ভীষণ ঘনকেশ ও জটিল এবং যিনি দেবী পার্বতী স্বরূপা স্ত্রীর স্বামী ও কার্তিক গনেশ দুই পুত্রের পিতা রূপে সংসারী হয়েও সাংসারিক বিষয় আশয় কামনা বাসনা চাওয়া পাওয়ার প্রতি অনাসক্ত , সেই ভূতের নাথ বাবা ভৈরব যিনি সকলের দুঃখ কষ্ট হরণ করতেই শিব হতে প্রকট হয়েছেন , তিনি আমায় কৃপা করুক ।
বেদশাস্ত্রে পরম পাপনাশে চরম জগদাখিল স্বামীন দর্পহারী
শরণাগত রক্ষক অজ্ঞান ভক্ষক ভক্তেকনাথ শমনান্তকারী ।
পদ্মত্রয় লোচন ভবপাশমোচন শোভিতা বামে উমা অর্ধনারী
ভৈরব ভূতনাথ শিব হইতে প্রকট করো কৃপা জয় কষ্টহারী ।।৮।।
👉 বেদাদি শাস্ত্রে যিনি পরমসত্য রূপে ধার্য হয়েছেন , যিনি চরম থেকে চরমতম পাপকেও বিনাশ করতে সক্ষম , যিনি সমস্ত জগদ সংসারের একমাত্র প্রভু ও সকলের দর্প চূর্ণবিচূর্ণ করেন , যিনি সকলের অজ্ঞানকে ভক্ষণ করেন তথা শরণাগত জীবের যিনি রক্ষা করেন , সেই ভক্তের নাথ যিনি শমনরূপী যমরাজেরও অন্তকারী । যার তিনটি নেত্র পদ্মের ন্যায় সুন্দর , যিনি ভব-সংসারের সকল মায়াপাশ মোচন করেন , যার বাম অঙ্গে ভগবতী উমা সদা বিরাজিতা , যিনি নারী শক্তিকে সম্মান প্রদর্শন করতেই নিজের অর্ধ অঙ্গে ভগবতীকে স্থান দিয়ে অর্ধনারীশ্বর নামে পরিচয় পেয়েছেন , সেই ভূতের নাথ বাবা ভৈরব যিনি সকলের দুঃখ কষ্ট হরণ করতেই শিব হতে প্রকট হয়েছেন , তিনি আমায় কৃপা করুক ।
ভক্তিভব বশে শয়ন একাদশে রুদ্রনাথ রচেন এ স্তুতি ভারী
দিয়ে সুন্দর সুতাল বাজিয়ে গাল শিব সম্মুখে বসে গীতকারী ।
হবেই সে সুখী সদজ্ঞান মুখী পাবে সঙ্গিনী সতী লক্ষ্মী নারী
সেই মহাধনবান ভক্ত মহান যদি কৃপা করেন শিব শুভ কারী ।।৯।।
👉 ভক্তির বশে দেবশয়নী একাদশীর পূণ্যদিনে রুদ্রনাথ এই ভারী ( কঠিন ) স্তুতিটির রচনা করেছেন । শিবের সম্মুখে বসে ভক্তিভাবে যে কেউ ছন্দ তাল সুর মিলিয়ে গাল বাজিয়ে এই স্তুতি গায়ন করবে , সে সংসারে পরমসুখী ও সত্য ব্রহ্মজ্ঞান মার্গী হবে এবং তার সঙ্গে সেই পুণ্যবান গৃহীজীবনে সঙ্গিনী রূপে একজন শান্ত সংসারী লক্ষ্মী সতী স্ত্রীকে পাবে । যদি সকলের মঙ্গলকারী ভগবান শিব কাউকে কৃপা করেন তবেই সংসারে এই সমস্ত কিছুই লাভ করতে কেউ সক্ষম হয় এবং প্রকৃতপক্ষেই সংসারে সে মহাভাগ্য ও ধনবান এর সাথে সাথে মহান ভক্ত রূপেও গণ্য হয় ।
।। ইতি শ্রীভৈরব করুণার্ঘ্যাষ্টক স্তব সম্পূর্ণ হোলো ।।
এই স্তোত্রটির বাংলা পদ্যাকার ভাষায়
অনুবাদক ও রচয়িতা :- শ্রীরুদ্রনাথ শৈব জী
©RudraNath_Shaiva
পোস্টটির কপিরাইট ও প্রচারে - শৈবসাহিত্য Blog
।। শ্রীগুরু দক্ষিণামূর্তয়ে নমঃ ।।
।। সদাশিবম ভজাম্যাহম ।।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন