বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

আত্মনির্বাণ ষষ্ঠক স্তুতি / Atmanirvan Shasthak Stuti


২৬ শে জুন , ২০২৫ 

শ্রীমন্মহাদেবায় নমঃ শিবায় 🚩


🚩 আত্মনির্বাণ ষষ্ঠক স্তুতি ( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে রচিত ) :-

 ( মূল সংস্কৃতে রচিত নির্বাণ ষঠকম স্তোত্র , যা মূলত স্মার্ত মতাদর্শনের প্রণেতা আচার্য শঙ্করের আত্মবোধ হতে রচিত । 

আচার্য শঙ্কর একজন শৈবদর্শন-পরম্পরার ঘোর বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও , "আমি কে ? পরম সত্য কি ? সবার মধ্যস্থিত মূল আত্মতত্ব কে ?" এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই তিনি বেদসার শৈবমতদর্শনের চূড়ান্ত মহাবাক্য যা উপনিষদ দ্বারাও প্রতিপাদিত , সেই "অহম ব্রহ্মস্মি" , "তত্বমসি ব্রহ্ম" বা "অহম রুদ্রের্ভি" বা "অহম শিবম শিবশ্চহম তঞ্চপি শিবমেব চ" অর্থাৎ , 'আমিই ব্রহ্ম , তুমিও সেই ব্রহ্ম , আমিই সেই রুদ্র বা আমি শিব সেই শিবই আমি ও তুমি সেই সাথে সমস্ত কিছুই শিব'  এই বাক্যকেই তিনি পরম রূপে উপলব্ধি করেন এবং শৈবদর্শন বিরোধী হয়েও পরোক্ষভাবে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি শিবাদ্বৈত শৈবদর্শনের এই সারবাক্য - "আমি তুমি আদি এ সমস্ত সৃষ্টিই সেই ব্রহ্ম আর সেই অদ্বিতীয় ব্রহ্মই শিব"-কেই স্বীকার করে , নির্বাণষঠকম স্তোত্র টির রচনা করেন যেখানে তার স্তুতির মূলবাক্য ছিলো - "চিদানন্দরূপঃ শিবহোহম শিবহোহম" । 

এই অত্যন্ত শ্রুতিমধুর ও তাত্ত্বিক সংস্কৃত ভাষার স্তোত্রটির অনুপ্রেরণায় আমি , বাংলার শিবভক্তদের কথা মাথায় রেখে ও তাদের পড়বার, বোঝবার সুবিধার্থে স্তোত্রটি এই আত্মনির্বাণ ষষ্ঠক স্তুতি নামে প্রথম বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে নিজের মতন করে নিজের ভাব ও কবিশৈলীর দক্ষতা অনুযায়ী অনুবাদ ও রচনা করলাম , যেহেতু বাংলার অনেক শিব ভক্তরা রয়েছেন যারা সংস্কৃত বা হিন্দি আদি ভাষায় রচিত বা লিখিত স্তব স্তোত্র বুঝতে বা পড়তে , উচ্চারণ করতে পারেন না , তাই মাতৃভাষা বাংলাতে তাদের ও সকল বঙ্গ সনাতনীদের পড়বার বোঝবার জন্যে সহজ সরল শব্দযোগে এটির রচনা । )



।। সকলের আত্মস্থিত পরমতত্ব সচ্চিদানন্দ পরমাত্মা ভগবান রুদ্র ।।


🚩আত্মনির্বাণ ষষ্ঠক স্তুতি ( সম্পূর্ণ বাংলায় ) :-


( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় পদ্যকার ও বঙ্গানুবাদ সহিত )


মন বুদ্ধি চিত্ত না আমি অহংকার 

না চক্ষু নাসিকা না সুস্বাদ জিহ্বার ।

না জল বায়ু অগ্নি নই আকাশ ভূমি

জড় এই দেহের শিব চেতনাত্মা তুমি ।।১।।

👉 আমি না তো মন বুদ্ধি বা চিত্ত না তো অহংকার , না চোখ মুখ নাক আর না তো আমি জিভের দ্বারা গ্রহণ করা কোনরকম স্বাদ । আমি জল বায়ু অগ্নি মহাকাশ ও পৃথিবী আদি পঞ্চভূত এসবের কিছুই নই , মূলত ,আমার এই দৃশ্যমান নশ্বর জড় মাংসলদেহের ভেতরে অগোচরাবস্থায় থাকা শাশ্বত সনাতন শুদ্ধ চৈতন্য আত্মতত্বরূপী পরমাত্মা শিবই ( তুমিই ) , প্রকৃতপক্ষে আমি ।

না জ্ঞান প্রাণ নিঃশ্বাস নই পঞ্চবায়ু 

না পঞ্চাবরণ কোশ ধাতু নই না আয়ু ।

নই পাদ পাণিপস্থ্ বচন না তো আমি

জড় এই দেহের শিব চেতনাত্মা তুমি ।।২।।

👉 আমি না তো জ্ঞান-শিক্ষা না তো আমি নিঃশ্বাস বা প্রশ্বাস আর না তো আমি কোনপ্রকার অপান-উপান-সোপান প্রাণ আদি পঞ্চবায়ু , না আমি রূপ-রস-রং-গন্ধ-গুণাদি পঞ্চাবরণ , না আমি অন্ননময়-প্রাণময়-মনোময়-বিজ্ঞানময়-আনন্দময় আদি পঞ্চকোষ আর না তো আমি কোনো শক্ত-তরল জাতীয় ধাতব পদার্থবস্তু । আমি প্রকৃতির নিয়মে সদা বাড়তে থাকা বা সীমিত হওয়া কারোর আয়ুই নই আর আমি বাক-পাণি-পদ-উপস্থ-পায়ু আদি পঞ্চকর্মেন্দ্রিয়ের কিছুই নই । মূলত ,আমার এই দৃশ্যমান নশ্বর জড় মাংসলদেহের ভেতরে অগোচরাবস্থায় থাকা শাশ্বত সনাতন শুদ্ধ চৈতন্য আত্মতত্বরূপী পরমাত্মা শিবই ( তুমিই ) , প্রকৃতপক্ষে আমি ।

না রাগ হিংসা মোহ নই আমি লোভ 

নই মিথ্যা অহংকার ক্ষীণভাব ক্ষোভ ।

না ধর্মার্থকাম মোক্ষের আনন্দে ঝুমি

জড় এই দেহের শিব চেতনাত্মা তুমি ।।৩।।

👉 আমি রাগ-হিংসা-লোভ-মোহ আদি কোনো বিকার নই , আমি সর্বনাশী মিথ্যা অহংকার নই আমি নিঁচু মানসিকতা সম্পন্ন ক্ষীণভাবা কোনো ক্ষোভগ্রস্থও নই । আমি ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষাদি চার পুরুষার্থ প্রাপ্তির আনন্দের বশে নাচতে বা ঝুমতে থাকা কোনো জীব-ক্লীব এসমস্তের কিছুই নই । মূলত ,আমার এই দৃশ্যমান নশ্বর জড় মাংসলদেহের ভেতরে অগোচরাবস্থায় থাকা শাশ্বত সনাতন শুদ্ধ চৈতন্য আত্মতত্বরূপী পরমাত্মা শিবই ( তুমিই ) , প্রকৃতপক্ষে আমি ।

না পাপ পূণ্য কর্ম না সুখ দুঃখ ভয়

নই বেদ তীর্থ যজ্ঞ পূজার অভিপ্রায় ।

না ভোজন বা ভোজ্য নই ভোক্তা আমি

জড় এই দেহের শিব চেতনাত্মা তুমি ।।৪।।

👉 আমি পাপ-পূন্যাদি কর্মও নই আর না সেই কর্মের ফল , আর না আমার আছে সুখের আনন্দ-উল্লাস আর না দুঃখের ভয় । আমি বেদশাস্ত্র তীর্থ যজ্ঞ পূজাদি শ্রৌত কর্ম কোনো উদ্দেশ্য বা ইচ্ছে পূরণের আশায় করিও না , কারণ আমি তো কামনা আশা ইচ্ছাদি বিষয়-আশয় হতে  ঊর্ধ্বস্থিত মুক্ত । না কেউ আমাকে ভোগ করে না কাউকে আমি ভোগ করি আর না তো কেউ আমার দ্বারা কাউকে ভোগ / প্রাপ্ত করে । মূলত ,আমার এই দৃশ্যমান নশ্বর জড় মাংসলদেহের ভেতরে অগোচরাবস্থায় থাকা শাশ্বত সনাতন শুদ্ধ চৈতন্য আত্মতত্বরূপী পরমাত্মা শিবই ( তুমিই ) , প্রকৃতপক্ষে আমি ।

না মৃত্যুর ভয় নেই জাতি বর্ণ আমার

পিতা মাতা নেই কেউ না জন্মাই বারম্বার ।

নই গুরুশিষ্য মিত্র না কাউকেই প্রণমি 

জড় এই দেহের শিব চেতনাত্মা তুমি ।।৫।।

👉 আমার মৃত্যু বা কালের ভয়ও নেই , না আমার কোনো জাত-পাত বর্ণের ভেদ আছে , আমি এই সৃষ্টি চক্রের গোলকধাঁধায় ফেঁসে থাকা জীবেদের ন্যায় জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবদ্ধ হয়ে বারম্বার জন্মগ্রহণও করি না আর না মৃত্যুপ্রাপ্ত হই , আমার ওপর এসব কোনো প্রাকৃতিক নিয়মই খাটে না । না আমি কারোর গুরুশিষ্য আর না কেউ আমার গুরুশিষ্য , আমার কোনো শত্রু-মিত্রও নেই আর না আমি কাউকে আলিঙ্গন বা প্রণাম করি , কারণ , আমার এই দৃশ্যমান নশ্বর জড় মাংসলদেহের ভেতরে অগোচরাবস্থায় থাকা শাশ্বত সনাতন শুদ্ধ চৈতন্য আত্মতত্বরূপী পরমাত্মা শিবই ( তুমিই ) , প্রকৃতপক্ষে আমি ।

নিষ্কল অগম্য আমার দিব্য স্বরূপ

আমি ইন্দ্রিয়াতীত ব্যাপ্ত চরাচর সুরভূপ ।

নই বদ্ধ না মুক্ত এক শুদ্ধ সদা আমি

জড় এই দেহের শিব চেতনাত্মা তুমি ।।৬।।

👉 অদ্বিতীয় অখণ্ড সকলের অগম্য নির্গুণ এমনই আমার পরমদিব্য জ্যোতির্ময় স্বরূপ । আমার রূপ সকলের সমস্ত বোধ-বুদ্ধি জ্ঞান-কর্ম আদি ইন্দ্রিয়ের অতীত এবং আমি সমগ্র চর-অচর ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির সর্বত্র বিরাজমান সকল মঙ্গলময় পরমদৈব সত্ত্বা বা তত্ত্বের অধিপতি । আমি কোনো মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ নই , তবুও আমি সমস্ত মায়ার ঊর্ধ্বে থাকা সকল বিকার হতে মুক্ত হয়েও এই মায়ার সংসারের প্রতিটা বিষয়বস্তুর মধ্যেই চির শুদ্ধ ভাবে মঙ্গলময় পরম দিব্যসত্ত্বা স্বরূপে অবস্থান করি , কারণ , আমিই সেই এক ও অদ্বিতীয় শাশ্বত সনাতন সদা শুদ্ধ চৈতন্য আত্মতত্বরূপী পরমাত্মা শিব , যিনি পঞ্চভূত দ্বারা তৈরি আমার এই দৃশ্যমান নশ্বর জড় মাংসলদেহের ভেতরে অগোচরাবস্থায় চৈতন্য চিদাত্মা রূপে সদা বিরাজিত একমাত্র পরমসত্য ।


ফলশ্রুতি


আমি বা তুমি লক্ষ চুরোয়াশি জীব 

সবেতেই স্থিত এক পরমতত্ত্ব শিব ।

রচেন রুদ্রনাথ ইহা বেদসার বচন 

সর্বজীবে শিবভাব অজ্ঞান মোচন ।।৭।।

👉 আমি তুমি বা ৮৪ লক্ষ যে জীব যোনি রয়েছে , সেই সকলের মধ্যে আত্মতত্ত্ব রূপে এক পরমসত্ত্বা শিবই স্থিত । এই জ্ঞান যা বেদের সার বচন তাকে জেনেই আমি শ্রী রুদ্রনাথ শৈব এই আত্মতত্ত্বময় স্তুতিটির রচনা করেছি । এই স্তুতির সারার্থ বুঝে যে "সকল জীবের মধ্যেই এক শিবই রয়েছেন দ্বিতীয় কিছু না" এই মূলতত্ত্বকে জীবনে উপলদ্ধ করতে সক্ষম হয় , তার সমস্ত অজ্ঞান নাশ হয় ।

লোভ দ্বেষ মিথ্যা অহংকার বর্জন

পঠিলে ভক্তিতে হয় আত্মজ্ঞানার্জন ।

যাহা সত্য তাহা শিব চিরোসুন্দরম 

চিদানন্দময় সেই আমিই শিবহোহম ।।৮।।

👉কোনো মানুষ নিজের লোভ দ্বেষ হিংসা মিথ্যা অহংকারাদি বিকার ত্যাগ করে শ্রদ্ধাযুক্ত বিনম্র ভক্তিভাবে এই স্তুতির পড়লে নিশ্চিত ভাবেই সেই আত্মজ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হয় ।  যেমন ঈশ্বর সত্য , সেই সত্যই একমাত্র শিব আর এই শিব মূর্তিই অদ্বিতীয় চির সুন্দর । এরূপ সৎ চিৎ ও আনন্দ যুক্ত শিবই হলাম আমি । 



।। ইতি আত্মনির্বাণ ষষ্ঠক স্তুতি সম্পূর্ণ হোলো ।।



এই স্তোত্রটির বাংলা পদ্যাকার ভাষায় 

অনুবাদক ও রচয়িতা :- শ্রীরুদ্রনাথ শৈব জী


©RudraNath_Shaiva


পোস্টটির কপিরাইট ও প্রচারে - শৈবসাহিত্য Blog 


।। শ্রীগুরু দক্ষিণামূর্তয়ে নমঃ ।।

।। সদাশিবম ভজাম্যাহম ।।

সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫

শ্রীশিবতাণ্ডব স্তুতি / shree shivtandav stuti


১৬ ই জুন , ২০২৫ 

শ্রী চিদম্বর নটরাজ জয়তু 🚩


🪔 শ্রীশিবতাণ্ডব স্তুতি ( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে রচিত ) : - 

( মূলত সংস্কৃত ভাষায় রচিত শিবতাণ্ডব স্তোত্রম টি অত্যন্ত মন্মোহক একটি সংস্কৃত শিব স্তুতি । বর্তমান সমাজে এটিকে নিয়েই একটি ভূল তথ্য ছড়িয়ে আছে চারিদিকে যে , এই স্তোত্র টি নাকি শিবভক্ত দশানন রাবণ দ্বারা রচিত যা শিবের খুব প্রিয় । কিন্তু আমাদের সমাজে ২৬০ টিরও অধিক রামায়ণের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার সংস্করণ পাওয়া যায় , না সেগুলিতে আর না কোনো পৌরাণিক শাস্ত্রের কাহিনীতে রাবণকৃত এই শিব স্তোত্র এর কোনো উল্লেখ আছে ,, এমনকি সর্বাগ্রে মান্য রামায়ণের আদিকবি বাল্মীকি দ্বারা রচিত বাল্মীকি রামায়ণ এ পর্যন্ত এই স্তোত্র টির কোনো উল্লেখ নেই , সেখানে স্পষ্ট লেখা রয়েছে যে - " কৈলাস পর্বতের নিচে চাপা পড়ে রাবণের স্থিতি যখন পাতালে হয় তখন রাবণ এই পীড়া ও অবস্থা থেকে বাঁচতে তার মন্ত্রীমণ্ডলের কথায় শিবকে প্রসন্ন করতে হাজার বছর ধরে সামবেদের মন্ত্র সুক্ত পাঠ করেন , তখন গিয়ে শিব তাকে সেই পীড়া থেকে মুক্ত করেন । " সাক্ষাৎ পরম ঈশ্বরকে এত সহজে সন্তুষ্ট করে বরদান পাওয়া যায় দেখে ও জেনে রাবণ সেই সময় থেকে নিজের স্বার্থে শিবের ভক্তি করা শুরু করেন , এটি রাবণ রচিত কখনোই নয় । 

এই স্তোত্রটির উৎস বিষয়ে একটি অস্পষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ বা উল্লেখ শোনা যায় । সেই প্রমাণ কাহিনী অনুযায়ী , খ্রিষ্টীয় ১১০০ শতকের সময় সম্ভবত মধ্য-দাক্ষণীয় ভারতের একটি সাম্রাজ্যের রাজার মন্ত্রী মণ্ডলের রত্নসভার নাট্যশাস্ত্রের এক মহাজ্ঞানী পণ্ডিত নাট্যকার রাজ্যে "দশেহরা" তিথিপোলক্ষ্যে রাজসভা দ্বারা আয়োজিত রামলীলা নাটকের রাবণ চরিত্রটির জন্য যে সংলাপ লেখেন , তারই মধ্যে রাবণ দ্বারা শিবের ভক্তি ও পাণ্ডিত্যকে দর্শানোর জন্যে এই স্তোত্রটি তিনি রচনা করেন , যা সেই রামলীলার রাবণ চরিত্রটি গায়ন করে ও এটির সুর শব্দ ছন্দ এতটাই সুন্দর ছিল যা সকলের হৃদয়ে গেঁথে যায় ও সেই থেকে আজও অব্দি সকলের দ্বারা এটি "রাবণ রচিত শিব তাণ্ডব স্তোত্র" বলে প্রচলিত ।


তাই এই মূলসংস্কৃতে রচিত শিবতাণ্ডব স্তোত্রম টির অনুপ্রেরণায় বাংলার শিবভক্তদের কথা মাথায় রেখে ও তাদের পড়বার, বোঝবার সুবিধার্থে এই শ্রীশিবতাণ্ডবস্তুতি টি প্রথম বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে নিজের মতন করে নিজের ভাব ও কবিশৈলীর দক্ষতা অনুযায়ী অনুবাদ ও রচনা করলাম , যেহেতু বাংলার অনেক শিব ভক্তরা রয়েছেন যারা সংস্কৃত বা হিন্দি আদি ভাষায় রচিত বা লিখিত স্তব স্তোত্র বুঝতে বা পড়তে , উচ্চারণ করতে পারেন না , তাই মাতৃভাষা বাংলাতে তাদের ও সকল বঙ্গ সনাতনীদের পড়বার বোঝবার জন্যে সহজ সরল শব্দযোগে এটির রচনা । )


।। সর্বসত্বকল্পের অষ্টভুজযুক্ত বামপদোর্দ্ধকাবস্থায় নৃত্যরত অপস্মরমর্দক শ্রীচিদম্বর নটরাজ শিব ।।




🚩 শ্রী শিবতাণ্ডব স্তুতি ( সম্পূর্ণ বাংলায় ) : -


( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় পদ্যকার ও বঙ্গানুবাদ সহিত )



জটা অরন্যে স্থিত গঙ্গা শুদ্ধ করে সংসার 

ডমহ্ডম ডমরুক ধ্বনি গলায় সর্পলংকার ।

প্রচণ্ড তাণ্ডব নৃত্যে নাচেন স্বয়ং নটরাজ

কৃপা করুক সেই তিনি যাহার এমন বিচিত্র সাজ ।।১।।


👉 যার গভীর ঘন অরন্যরূপী জটাজাল মধ্যে সমাহিতা সুরধুনী গঙ্গার ধারা ভূতলে পতিত হয়ে সমগ্র সংসারকে পবিত্র করেন , সর্পরাজ বাসুকি যার গলার দোদুল্যমান অলংকার , যার হাতে থাকা ডমরু নামক বাদ্যযন্ত্র হতে প্রকাশিত ডম ডম ডম সুন্দর নাদশব্দ ছন্দের তালে যিনি নিজেই আনন্দ মগন হয়ে প্রচণ্ড উল্লাসের সাথে লাস্য তাণ্ডব করেন , সেই নৃত্যাদি সকল কলাকুশলীর দেবতা নটরাজ যার এমন বিরূপ বিচিত্র তাত্ত্বিক বেশভূষা , তিনি সর্বদা আমার ওপর তার কৃপাদৃষ্টি নিক্ষেপ করুক ।

পরম পবিত্রা মন্দাকিনী ভীষন তীব্র বেগে

জটাতে করছে ক্রীড়া দেখছে সকল সৃষ্টি জেগে ।

ধধগ ধধগ নেত্রে অগ্নি ললাটে চন্দ্র হাসে 

প্রণাম করি এমন দেবে কাল কাঁপে যাহার ত্রাসে ।।২।।


👉 যিনি দেবতাদের সহ ঘোর থেকে ঘোরতর অন্যায় করা পাপীরো পাপ হরণ করেন সেই পরমা পবিত্রা ভগবতী গঙ্গা যিনি ব্রহ্মা কমণ্ডল হতে ভীষন তীব্র বেগে মর্তের দিকে ধাবিত হলে ধরিত্রী মাতা সহ সকল সৃষ্টি ভীত হয়ে তার বেগ কে ধারণ করে সৃষ্টি কে রক্ষার্থে শিবের শরণ নিলে যিনি গঙ্গাকে এক ক্ষণের মধ্যেই তার জটাতে বন্দী করে নেন , এখন সেই তীব্রবেগী গঙ্গায় কেমন শান্ত মন্দস্রোতা মন্দাকিনী হয়ে যার জটা মধ্যে খেলা করছে , তাই দেখে সকল সৃষ্টিই হতচকিত । আবার , তার ললাট ভালে চতুর্থী তিথির সমান সুন্দর চন্দ্রমা ও কপালে ভীষন এক ত্রিনয়ন হতে ধক ধক ধক শব্দে অগ্নিতেজ স্ফুরিত হচ্ছে , এমন ঈশ্বরকে প্রণাম জানাই যার ত্রাসে সাক্ষাৎ সময় বা কালরাজ মৃত্যু দেবতা যমও ভীতসন্ত্রস্ত ।

নগেন্দ্রকন্যা উমা সদাই স্থিত যাহার সঙ্গে 

দশদিক হতে নজর তাহার সকল নাট্যরঙ্গে ।

কৃপাতে যাহার জীবের সকল বাধা বিপত দূর হয়

মহান তিনিই পরমকারণ নেই এতে কোনো সংশয় ।।৩।।


👉 গিরিরাজ হিমালয় কন্যা পার্বতী সদা সর্বদা যার সাথে সঙ্গিনী হয়ে স্থিত রয়েছেন , যিনি দশদিক / সর্বত্র হতে এই সৃষ্টিরূপী মায়ার জাগতিক রঙ্গমঞ্চে ঘটে চলা প্রতিটা নাটকের ওপর নিজের দৃষ্টি রাখছেন সেই যার কৃপায় জীবের সকল বাধা বিপদ মায়া মোহ ভ্রমত্যাদি নাশ / দূর হয় , তিনিই যে সকলের আদি , সর্বশ্রেষ্ঠ ও সমস্ত কারণের কারণ একমাত্র পরমোকারণ এতে কোনো সংশয় নেই । 

জটা মুকুটে বাধা নাগ মণির ভীষন ছটায় 

পিঙ্গল বর্ণজ্যোতি জীবের চিত্ত বিকার ঘটায় ।

মদমত্ত গজরাজ চর্মে শোভিত যাহার কটিভাগ 

সেই ভূতভাবন শিবের প্রতি থাকুক সদা মোরানুরাগ ।।৪।।


👉 যার জটামুকুটের জ্যোতির ছটায় এমন , যেনো মনে হয় জটাতে কোনো নাগমণি বাঁধা রয়েছে , যার দেহের বর্ণ অগ্নির সমান পিঙ্গল-স্বর্ণ আভার তেজোজ্যোতি দেবাদি সকল জীবের চিত্তকে চঞ্চল বা মুগ্ধস্মিত করে , মিথ্যাহংকারে চুর নিজের ভক্ত গজাসুরকে বধ করে আবার তার দেহের চর্মকেই নিজের কটিভাগের বস্ত্র বানিয়ে ভক্তকে কৃপা করেছেন , সেই ভূতের প্রতিও প্রীতি দেখানো ভক্তবৎসল ভূতনাথ শিবের প্রতি আমার আজন্ম-মৃত্যু শ্রদ্ধানুরাগ ভক্তিভাব থাকুক ।

স্বর্গাদিদেব যখন তাহার চরণকমল মাথায় ধরে

সেই পদ হতে পতিত ভস্মে দেবললাট তিলক করে ।

অশেষ-শেষনাগে বাঁধা জটায় শীতল চন্দ্রমা

সেই চন্দ্রচূড়ের কৃপায় মোর বাড়ুক শ্রী-যশ-গরিমা ।।৫।।


👉 পূজা-সেবার ইচ্ছায় হোক বা মোক্ষলাভের আশায় হোক , ব্রহ্মা-বিষ্ণু-ইন্দ্র আদি স্বর্গস্থিত দেবতারা যার চরণযুগলকে নিজ নিজ মস্তকে ধারণ করবার সময় তার চরণে ও গাত্রে লেপিত ভস্ম ভূমিতে পতিত হলে সেই ভূপাতিত ভস্ম ব্রহ্মাদি দেবতারা তাদের স্বীয় স্বীয় কপালে তিলক রূপে ধারণ করেন । নাগরাজ শেষানন্ত পেঁচানো যার ধূসর বর্ণের জটায় ছোট্ট চন্দ্রমা বিরাজিত , সেই চন্দ্রচূড় ভগবানের কৃপায় আমার শ্রী-সম্পত্তি জ্ঞান সামর্থ্য প্রতিপত্তি আদি যশ খ্যাতি বাড়ুক এই প্রার্থনা । 

ললাট ত্রিনেত্র হতে প্রকাশিত অগ্নি বিচ্ছুরণ

যাহার বশে জগত সেই কাম জ্বলে হোলো মরণ ।

ইন্দ্রাদিদেব দানব নিত্য পূজা জপ করেন যাহার

দয়া করুক সেই তিনিই যিনি প্র-পঞ্চভূত সার ।।৬।।


👉 যেই কামদেব মদনের ইশারার বশবর্তী হয়ে সমস্ত জীব জগত চলে এমন দুর্জেয় কামদেবকে যিনি তার ললাটে থাকা তৃতীয় নেত্র হতে স্ফুরিত ভীষন অগ্নিরাশি তেজ দ্বারা দগ্ধ করেছেন , ইন্দ্রাদি দেবতা অসুর মানব পশু জীব ও ভূতগণ যার নিত্যদিন পূজা জপ ধ্যান করে , সেই তিনিই যিনি প্রপঞ্চময় জগতের সারতত্ত্ব ও পঞ্চভূতের অধীশ্বর আমাকে সর্বদা দয়া করুক এমন আমার কামনা ।

ত্রিনেত্রানল হতে যিনি করেছেন মদন মর্দন

যেই ত্রয়ম্বকের কৃপায় হয় জীবের পুষ্টি বর্ধন ।

পার্বতীর স্নিগ্ধা মুখশ্রী কারণ যাহার আনন্দের

সেই ত্রিনেত্রের কৃপায় গতি হয় যেনো এই মন্দের ।।৭।।


👉 যিনি তার তৃতীয় নেত্রের অগ্নি দ্বারা মদন দেবকে ভস্মীভূত করেছেন , সেই যেই তিন নেত্রযুক্ত ঈশ্বরের কৃপায় জীব সমূহের জীবন নিরোগ সুন্দর সুস্থ সবল ভাবে কাটে , পার্বতীর শান্ত স্মিতা মুখমণ্ডল দেখে যিনি আনন্দিত হন , সেই ত্রিনেত্র শিবের কৃপায় যেনো আমার মত মন্দের দেহান্তে সদগতি হয় । 

কন্ঠ যাহার নীলাভ সমান নবীন শ্যাম মেঘকায় 

সমুদ্র মন্থনের গরল যিনি ধরেছেন নিজ গলায় ।

নরসিংহ চর্মবস্ত্র পরে পালেন যিনি এই সংসার

মহাপ্রলয় কালে তিনিই বিনাশো লয় করেন আবার ।।৮।।


👉 বৃষ্টির পূর্বে আকাশের বুকে যেমন শ্যামল বা কালচে বর্ণের মেঘরাশি নতুন করে জমে থেকে আকাশকে আচ্ছাদিত করে ফেলে সেরকমই , সমুদ্র মন্থন হতে উৎপন্ন জগত বিপন্নকারী ভীষন হলাহল বিষকে যিনি নিজের কণ্ঠে ধারণ করার ফলে তার কন্ঠ নীলচে বর্ণের আভায় আভরিত হয়েছে , যিনি বিষ্ণুর উগ্র নরসিংহ অবতারকে দমন করে সেই ছালকে নিজের বস্ত্র বানিয়ে সৃষ্টিকে রক্ষা করেছেন ও যিনি সর্বদা জগতকে পালন বর্ধন করেন সেই তিনিই আবার সৃষ্টির অন্তে মহাপ্রলয়ের সময় তার পালিত সৃষ্টির সমস্তকিছুর সংহারও করেন ।

নীলকমল পুষ্পে যাহার গলদেশ সদা সুশোভিত 

চঞ্চল চিত্ত মৃগের ছাল সদা দেহে পরিহিত ।

দক্ষ ত্রিপুরও অন্ধকের যিনি হরেছেন অহংকার

ভক্তিতে ভজি তাহারে যিনি অখিল বেদ-ব্রহ্মসার।।৯।।


👉 যার গলায় নীলপদ্মের মাল্যলংকার নিত্য শোভা পায় , চঞ্চলমনা কৃষ্ণমৃগ ও স্বর্ণমৃগ হরিণের ছাল দ্বারা যার বাম কাঁধ হতে বুক পর্যন্ত শরীর আবৃত , সেই যিনি প্রজাপতি দক্ষ , অজেয় ত্রিপুরাসুর ও অসুররাজ অন্ধকের অহংকার কেও হরণ করেছেন , আমি ভক্তিভাবে নত হয়ে বেদাদি অখিল শাস্ত্রে বর্ণিত যিনি একমাত্র ব্রহ্ম , সেই তারই সদা সর্বদা ভজনা করি ।

সমগ্র শক্তি যাহার ইচ্ছে মাত্র হতে প্রকাশিতা 

মহেশ্বরী সদাই তাহার বাম অঙ্গেতে বিরাজিতা ।

গজরাজ ইন্দ্র যমের দর্প যিনি করেছেন চুরমার

সেই নির্বিকার দেবের কাছে করি আমি নতি স্বীকার ।।১০।।


👉 যার ইচ্ছা হতে তার নিজ হৃদয়ে অবস্থিতা চিৎশক্তি স্বরূপা আদ্যাশক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে , সেই আদ্যাশক্তি ভগবতীই মহেশ্বরী রূপে যার বামপার্শ্বে নিত্য বিরাজ করছেন , যিনি গজরাজ গজাসুর দেবরাজ ইন্দ্র ও ধর্মরাজ যমের অহংকার কেও দুর্দণ্ড প্রতাপতার সাথে চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছেন , সেই নির্লিপ্ত নিশ্চল নিরহংকারী নির্বিকার দৈবত্ব সম্পন্ন দেবতার কাছে আমি স্বেচ্ছায় নতি স্বীকার করি ।

জটাতে লিপ্ত সর্পেরো ফোঁস ফোঁস শ্বাস শব্দ

ললাট নেত্র স্ফূরিত তেজে সকল সৃষ্টি জব্দ ।

ধিম ধিমিক মৃদঙ্গ তাল কৈলাসে উঠেছে আজ 

নাচিছে তাণ্ডব দেখো ওই সৃজন ছন্দে নটরাজ ।।১১।।


👉 যার জটাতে পেঁচিয়ে থাকা সর্পের নিঃশ্বাস হতে নির্গত ফোঁস ফোঁস শব্দের আওয়াজ সকল সৃষ্টির মনে ভয় ধরিয়ে দেয় , যার ললাট নেত্র থেকে নির্গত হওয়া ভীষণ অগ্নি তেজের প্রভাব সকল সৃষ্টিকে জব্দ ( বিধ্বংস ) করতে সক্ষম , আজ সেই বিধ্বংসকারী দেবতাই নটরাজ রূপে কৈলাসে মৃদঙ্গের ধিমিক ধিমিক তালে নতুন সৃষ্টির ইচ্ছায় আনন্দ তাণ্ডব নৃত্য করছেন ।

প্রস্তর বা গন্ধপুষ্প হোক সর্পাদি মুকতা রত্ন 

নেই শত্রু মিত্রে ভেদ তিনি করেন সমান যত্ন ।

রাজা প্রজা ভিখারী বা ক্ষুদ্রতি ক্ষুদ্র কিট জীব

সমান সবাই যাহার কাছে তিনি তো সত্য সদাশিব ।।১২।।


👉 যার কাছে পাথর সুগন্ধি ফুল-ফল বা বিষাক্ত সর্প মুক্ত রত্নাদি মনি-মানিক্যাদি বস্তুতে কোনো ভেদ নেই , শত্রু মিত্র নির্বিশেষে সকলের দেওয়া পূজাপোচার ভোগ-নির্মাল্যকে যিনি সমান যত্নাভাবে গ্রহণ করেন , সুরাসুর রাজা প্রজা ভিখারী পশু পাখি বৃক্ষ সহ ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র কিট পতঙ্গাদি জীব সকলেই যার কাছে এক সমান প্রিয় , যিনি এমন সমদর্শী ঈশ্বরত্ব ভাবযুক্ত, তিনি একমাত্র সত্য সনাতন পরমেশ্বর সদাশিব ছাড়া আর কেউ হতেই পারেন না ।

ভস্মের ত্রিপুণ্ড্র ভাল ঐ শশাঙ্ক যাহার ললাটে 

করি এমন দেবের পূজা বসে নীরব গঙ্গার ঘাটে ।

হাত জোড়ে করি প্রণাম শিব নাম জপি সদা মুখে

বাকি যেটুকু ইহকাল কাটে তা যেনো পরমসুখে ।।১৩।।


👉 যার কপাল ভস্ম দ্বারা অঙ্কিত ত্রিপুণ্ড্র নামক সনাতন তিলক ও ললাট অর্ধচন্দ্রমা দ্বারা সুসজ্জিত , গঙ্গা নদীর তীরে বা কোনো পবিত্র ভূমিতে বসে নিশ্চল মনে আমি সেই দেবতারই পূজা করি , প্রণাম করি ও সদা সর্বদা মুখে "শিব" এই দ্ব্যাক্ষরী দিব্যনাম জপ করতে থাকি , যাতে এই সংসারে আমার আর বাদবাকি যেটুকু জীবন আছে , শিবের কৃপায় তা যেনো ভয় মোহ দুঃখ কষ্ট রহিত হয়ে পরম আনন্দে কেটে যায় ।

এমন শিবস্তুতি সদাই করেন যে পঠন স্মরণ 

অন্তে শিবের কৃপায় শুদ্ধ পারে সে ভব তরণ ।

শিবঃ শিব চিন্তনে তাহার সকল মোহ বিনাশ হয়

শিবভক্তিতে ডুবিছে যে কিসে তাহার দুশ্চিন্তা ভয় ।।১৪।।


👉 এমন সুন্দর শিব স্তুতির যে নিত্য পাঠ স্মরণ বা এর অর্থ অন্যের সম্মুখে বর্ণনাও করেন , ভগবান শঙ্করের কৃপায় সেই ব্যক্তির লোভ মোহ বিকার বিনষ্ট হয়ে পরম জ্ঞানযুক্ত হয় ও শিব কৃপাতেই সকল চিন্তামুক্ত হয়ে সারাজীবন শুদ্ধ সাত্ত্বিক ভাবে জীবন অতিবাহিত করে অন্তিমকালে এই ভব সংসার হতে পার হয়ে যায় , কারণ যে শিবের ভক্তিমার্গে শিবের চিন্তন-পূজনে একবার মজেছে , তাকে ইহসংসার জগতের আর কোনো দুশ্চিন্তা ভয় বিকার গ্রাস করতে পারে না । 

মধ্যাহ্ন প্রাত সন্ধ্যাকালে শিবপূজার শেষে

রুদ্রনাথ রচিত ইহা পাঠ করে যে ভালোবেসে ।

অসীম অনন্ত শক্তি-শৌর্যে ভক্তে প্রতাপ বাড়ে 

ইন্দ্রাধিক লক্ষ্মী-যশ তাহার গৃহদ্বারে কড়া নাড়ে ।।১৫।।*


👉 প্রাতকাল মধ্যাহ্নকাল সান্ধ্যকাল বা রাত্রিকাল যখনই হোক যেকোনো সময়েই কৃত শিবপুজার শেষে , রুদ্রনাথ শৈব দ্বারা রচিত এই স্তুতিটি বিনম্র শ্রদ্ধা ভক্তিভাবে ভালোবেসে শিবের উদ্দেশ্যে যে কেউই পাঠ করে , সে যেমন অনন্ত শক্তি জ্ঞান শৌর্যের অধিকারী হয় তেমনি তার অভ্যন্তরে নিষ্কাম ভক্তিভাবেরও বোধোদয় হয় , স্বর্গাধিপতি ইন্দ্রোপেক্ষাও অধিক ধন যশ শ্রী খ্যাতি তার গৃহ দ্বারের সম্মুখে এসে দাড়িয়ে থাকে ।* ( ফলশ্রুতি ) 



 ।। ইতি শ্রীশিবতাণ্ডব স্তুতি সম্পূর্ণ হোলো ।।



এই স্তোত্রটির বাংলা পদ্যাকার ভাষায় 

অনুবাদক ও রচয়িতা :- শ্রীরুদ্রনাথ শৈব জী


©RudraNath_Shaiva


পোস্টটির কপিরাইট ও প্রচারে - শৈবসাহিত্য Blog 


।। শ্রীগুরু দক্ষিণামূর্তয়ে নমঃ ।।

।। সদাশিবম ভজাম্যাহম ।।