১৫ ই নভেম্বর , ২০২৫ 🚩
ॐ শিবলিঙ্গায় নমঃ 🙏
🪔শিবলিঙ্গ স্তুতি ( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে রচিত ) : -
( মূলত সংস্কৃতে রচিত লিঙ্গাষ্টকম স্তোত্রের অনুপ্রেরণায় বাংলার শিবভক্তদের কথা মাথায় রেখে ও তাদের পড়বার বোঝবার সুবিধার্থে এই শিবলিঙ্গ স্তুতি স্তোত্রটি প্রথম বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে নিজের মতন করে নিজের ভাব ও কবিশৈলীর দক্ষতা অনুযায়ী অনুবাদ ও রচনা করলাম , যেহেতু বাংলার অনেক শিব ভক্তরা রয়েছেন যারা সংস্কৃত বা হিন্দি আদি ভাষায় রচিত বা লিখিত স্তব স্তোত্র বুঝতে বা পড়তে , উচ্চারণ করতে পারেন না , তাই মাতৃভাষা বাংলাতে তাদের ও সকল বঙ্গ সনাতনীদের পড়বার বোঝবার জন্যে সহজ সরল শব্দযোগে এটির রচনা । )
![]() |
| ।। পরমেশ্বর সদশিবের নিরাকার ব্রহ্মবিগ্রহ শিবলিঙ্গ ।। |
🚩শিবলিঙ্গ স্তুতি ( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় ) : -
( সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় পদ্যকার ও বঙ্গানুবাদ সহিত )
বিষ্ণুবিধি আদি স্বর্গের দেবগণ
করেন ব্রহ্ম হরলিঙ্গের পূজন ।
নাশে যাহা শোক জন্ম ও মরণ
সেই শিবলিঙ্গে করি আমি নমণ ।।১।।
👉 বিষ্ণু-ব্রহ্মা আদি স্বর্গস্থিত দেবতারা সর্বদা নিরাকার ব্রহ্মস্বরূপ যেই লিঙ্গ বিগ্রহের পূজা করেন , যার পূজায় জীবের জন্ম-মৃত্যুর পুনরাবৃত্তির শোকচক্র বিনাশ হয় , সেই পরমব্রহ্ম স্বরূপ শিবলিঙ্গকে আমি প্রণাম করি ।
শ্রেষ্ঠ মুনি আদি বিপ্র ঋষিগণ
লিঙ্গপূজায় হয় ভব কামদহন ।
রাবণ অহং করেন যিনি দমন
সেই শিবলিঙ্গে করি আমি নমণ ।।২।।
👉 অগস্ত্য-দধীচি-বিশ্বামিত্র আদি শ্রেষ্ঠ ঋষি মুনিগণ ও ব্রহ্মজ্ঞানী কুলোত্তম ব্রাহ্মণেরা সদা যার পূজা করেন , যেই লিঙ্গ বিগ্রহের পূজায় সাংসারিক মায়া-মোহ-কাম-বাসনা আদি অজ্ঞান বিনষ্ট হয় , যিনি রাক্ষসরাজ রাবণের অহংকারকে চূর্ণ করেছিলেন , সেই পরমব্রহ্ম স্বরূপ শিবলিঙ্গকে আমি প্রণাম করি ।
পূজায় যাহার হয় বুদ্ধি বিবর্ধন
যাহার করে দেবাসুর গুণকীর্তন ।
লেপিত যাহায় সুগন্ধাদি চন্দন
সেই শিবলিঙ্গে করি আমি নমণ ।।৩।।
👉 যাকে পূজা করলে সদজ্ঞান-সদবুদ্ধি বিবর্ধিত হয় ও অনেকাদি বিষয়ে সহজেই সিদ্ধিলাভ হয় , সকল দেবতা ও অসুরকুল একত্রে যার মহিমা-গুণগান কীর্তন করে থাকে , যার লিঙ্গ বিগ্রহে সর্বদা ভস্ম সুগন্ধি দ্রব্য মিশ্রণ ও চন্দন লেপিত থাকে , সেই পরমব্রহ্ম স্বরূপ শিবলিঙ্গকে আমি প্রণাম করি ।
নাগমাল বাসুকি যাহার গলভূষণ
দক্ষ-যজ্ঞ করেছেন যিনি শোষণ ।
শোভে যাহাতে মনিমুক্তাদি রতন
সেই শিবলিঙ্গে করি আমি নমণ ।।৪।।
👉 নাগরাজ বাসুকি যার বিগ্রহকে গলভূষণ রূপে মালার ন্যায় আবৃত করে রয়েছে , যিনি দাম্ভিক প্রজাপতি দক্ষের যজ্ঞানুষ্ঠানকে প্রচণ্ড ভাবে শোষণ ( ভয়ানক ভাবে বিধ্বংস ) করেছিলেন , যার বিগ্রহে মহামূল্যবান মনি-মুক্তা আদি রত্ন পাথরে সুসজ্জিত , সেই পরমব্রহ্ম স্বরূপ শিবলিঙ্গকে আমি প্রণাম করি ।
স্নানাভিষেকে পঞ্চামৃত ও চন্দন
শতজন্মের পাপ করে যিনি খণ্ডন ।
সুরলোক পুষ্পে শোভিত রত্নাসন
সেই শিবলিঙ্গে করি আমি নমণ ।।৫।।
👉 পঞ্চামৃত-চন্দন-সুগন্ধ-গঙ্গাজল আদি ষোড়শোপচার দ্বারা যার নিত্য অভিষেক করা হয় , যিনি জীবের শতশত জন্মের সঞ্চিত পাপকর্মের কর্মফলকে নির্মূল করে দেন , যার অধিষ্ঠানের আসন মণিরত্ন ও পারিজাত-মন্দার-কর্ণিকা-কল্পবর্ষা-মঞ্জরিকামিকাদি স্বর্গীয় পুষ্প দ্বারা সর্বদা সুবাসিত এবং সুসজ্জিত , সেই পরমব্রহ্ম স্বরূপ শিবলিঙ্গকে আমি প্রণাম করি ।
কৃষ্ণ রাম আদি অবতারে নারায়ণ
করেন ভক্তিভাবে যাহার অর্চন ।
যাহার প্রভাজ্যোতি সমকোটি তপন
সেই শিবলিঙ্গে করি আমি নমণ ।।৬।।
👉 পরশুরাম , রামচন্দ্র ও শ্রীকৃষ্ণাদি ভগবান নারায়ণের শ্রেষ্ঠ অবতারগণেরা তাদের অবতারলীলায় নিত্য যার জপ-পূজার্চনা করেছেন , যার তেজোজ্যোতি কোটিকোটি সূর্যের প্রকাশ সমান , সেই পরমব্রহ্ম স্বরূপ শিবলিঙ্গকে আমি প্রণাম করি ।
চরাচর সৃজন লয়ের যিনি কারণ
করেন বিকার মোহ অজ্ঞান তারণ ।
স্মরণ মাত্রে কলিকালপীড়া শমন
সেই শিবলিঙ্গে করি আমি নমণ ।।৭।।
👉 যিনি চরাচর ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টির মূলকারণ ও অন্তিমে যার মধ্যেই সকল কিছু লীন ( লয় ) হয় বলেই যাকে লিঙ্গ বলা হয় , যার পূজায় মদ-মোহ-অহংকারাদি অজ্ঞানরূপী বিকার জীবের চেতনা থেকে বিতাড়িত হয় , যাকে স্মরণ বা মনে মনে চিন্তন মাত্রেই কলিকালরূপী মহাব্যাধির কষ্ট-পীড়া নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় , সেই পরমব্রহ্ম স্বরূপ শিবলিঙ্গকে আমি প্রণাম করি ।
দেবগণগুরু সহ ঋষি ভৃগুনন্দন
করেন যাহার সদা শ্রীচরণ বন্দন ।
পরমসত্য যিনি গুণাতীত সনাতন
সেই শিবলিঙ্গে করি আমি নমণ ।।৮।।
👉 সমস্ত দেবগণের গুরু বৃহস্পতি ও ঋষি ভৃগুর পুত্র অসুরগুরু শুক্রাচার্য্য সর্বদা যার চরণযুগলের পূজা-বন্দনা করে থাকেন , যিনি শাশ্বত-পরমসত্য-বিভু পরমতত্ত্ব-সনাতন ও সকল গুণের আধার , সেই পরমব্রহ্ম স্বরূপ শিবলিঙ্গকে আমি প্রণাম করি ।
ফলশ্রুতি :-
বত্রিশ সনের অগ্রহায়ণ মাসে
রুদ্রনাথ রচে গৃহ শিবালয়ে বসে ।
পূজাকালে বা ভক্তিযুত ভাবে
পঠিলে শিবলোক নিশ্চিত যাবে ।।৯।।
👉 বাংলা সন ১৪৩২ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে আমি রুদ্রনাথ শৈব আমার গৃহ শিবমন্দির প্রাঙ্গণে বসে এই শিবলিঙ্গ স্তুতিটির রচনা করেছি । এই স্তুতিটিকে যদি কেউ শিবপূজার সময় বা অন্যত্র যেকোনো স্থানে অবস্থান কালে ভক্তিভাবে পাঠ করে থাকে , তবে সেই পূন্যাত্মা ভক্ত অবশ্যই শিবলোকে যাবে এবং শিবের সান্নিধ্য-স্নেহ লাভ করবে ।
।। ইতি শিবলিঙ্গ স্তুতি সম্পূর্ণ হোলো ।।
এই স্তোত্রটির বাংলা পদ্যাকার ভাষায়
অনুবাদক ও রচয়িতা :- শ্রীরুদ্রনাথ শৈব জী
©RudraNath_Shaiva
পোস্টটির কপিরাইট ও প্রচারে - শৈবসাহিত্য Blog
।। শ্রীগুরু দক্ষিণামূর্তয়ে নমঃ ।।
।। সদাশিবম ভজাম্যাহম ।।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন