১২ই আগষ্ট , ২০২৪
🪔শিব চল্লিশ ( বাংলা পদ্যাকর ) :-
( অযোধ্যাদাস নামক একজন উত্তরপূর্ব ভারতের অযোধ্যা সংলগ্নস্থান অবধে বসবাসকারী অবধিকবির ঔধি ( অবধি ) ভাষায় রচিত অত্যন্ত মন্মোহক শিব চালিসা নামক শিবভক্তি-মূলক স্তুতিটির অনুপ্রেরণায় বাংলার শিবভক্তদের কথা মাথায় রেখে ও তাদের পড়বার, বোঝবার সুবিধার্থে এই শিব চল্লিশ শিবস্তুতি নামে প্রথম বাংলা ভাষায় পদ্যাকারে নিজের মতন করে নিজের ভাব ও কবিশৈলীর দক্ষতা অনুযায়ী অনুবাদ ও রচনা করলাম , যেহেতু বাংলার অনেক শিব ভক্তরা রয়েছেন যারা সংস্কৃত বা হিন্দি আদি ভাষায় রচিত বা লিখিত স্তব স্তোত্র বুঝতে বা পড়তে , উচ্চারণ করতে পারেন না , তাই মাতৃভাষা বাংলাতে তাদের ও সকল বঙ্গ সনাতনীদের পড়বার বোঝবার জন্যে সহজ সরল শব্দযোগে এটির রচনা। )
![]() |
| রুদ্রনাথ শৈবের গৃহপূজিত "শ্রীশ্রী উন্মুক্তেশ্বর শিব" মহাদেব |
শিবপরিবার বন্দনা
জয় শঙ্করশিব-পার্বতী
সদা থাকে যেনো তোমাতে মতি ।।১।।
মহাসেন দেবসেনাপতি
বন্দিনু দয়া করো আমার প্রতি ।।২।।
রিদ্ধি-সিদ্ধিপ্রিয় গণপতি
জ্বালো মোরান্তরে জ্ঞানজ্যোতি ।।৩।।
নন্দীকেশ প্রভু সুযশাপতি
অন্তে যেনো হয় মোর শিবেগতি ।।৪।।
চল্লিশা পদ্য ( বাংলা পদ্যাকার )
( সম্পূর্ন বাংলাভাষায় পদ্যাকার ও বাংলা অর্থ সহ )
করুণা সিন্ধু মহিমা তব অপার ।।১।।
👉হে দয়ার মূর্ত প্রতীক সতীর স্বামী শিব ! তুমি দয়া , করুণা ও কৃপার সিন্ধু , তোমার মহিমা-গরিমা অসীম ও অনন্ত ।
অর্ধচন্দ্র শোভে তোমার ললাটে
কুণ্ডল নাগের সাজে কর্ণপুটে ।।২।।
👉অর্ধ চন্দ্রমা তোমার মাথায় শোভা পায় ও তোমার দুই কর্ণছিদ্রে কম্বল ও অশ্বতর নামক দুটি সাপের কুণ্ডল ( কানের দুল ) শোভা পাচ্ছে ।
কর্পূরগৌর জটায় গঙ্গারধার
মুণ্ডমালী ভস্ম দেহের শৃঙ্গার ।।৩।।
👉কপ্পুরের সমান তোমার দেহ শুভ্র-শ্বেতবর্ন যুক্ত ও তোমার মস্তকের জটাজালে রয়েছেন দেবীগঙ্গা , কল্পান্তে পঞ্চত্ব-প্রাপ্ত ব্রহ্মা-বিষ্ণু-ইন্দ্রের মুণ্ড , কঙ্কাল তোমার গলার মালা ও ভস্ম তোমার দিব্য অঙ্গের শৃঙ্গার ।
কৃত্তিবাসী কটে গজ চর্মাম্বর
রুদ্রাক্ষ দেহে বাসুকি কণ্ঠহার ।।৪।।
👉 মৃগ ( হরিণ ) চর্ম তোমার দেহের বসন ও গজ ( হাতির ) চর্ম তোমার কটিভাগের আবরণ , সকলদেহ রুদ্রাক্ষ-বিভূষিত ও নাগরাজ বাসুকি তোমার কণ্ঠ হার ।
মেনকা মাতা গিরিরাজ কুমারী
বামেতে তোমার শোভেন শঙ্করী ।।৫।।
👉মাতা মেনকা ও গিরিরাজ হিমালয়ের কন্যা জগন্মাতা পার্বতী নিরন্তর তোমার শরীরের বামভাগে শোভা পাচ্ছেন ।
ডমরু-বিষাণ-পরশু-শুলধরো
রুদ্র তেজে দুষ্টরে সংহারো ।।৬।।
👉 হস্তে থাকা শিঙ্গা , ডমরু , পরশু ( কুঠার ) ও ত্রিশূলের মতন ভীষণ অস্ত্র দ্বারা সর্বদায় রুদ্র-রূপ ধারণ করে তুমি ঘোর পরাক্রমী শত্রুদের সংহার করো ।
নন্দী-গণেশ তোমার সেবাতে
সেনাধ্যক্ষ কার্তিক সদাসাথে ।।৭।।
👉তোমার রুদ্রগণদের সৈন্যঅধ্যক্ষ রূপে নিয়োজিত রয়েছেন স্বয়ং দেবতাদের সেনাপতি ভগবান কার্তিকেয় , এছাড়াও শ্রীনন্দী ও ভগবান গণেশ প্রমুখ মহানেরা সর্বদা তোমারই সেবা করে থাকেন ।
বিপদে দেবগণ স্মরিলে তোমারে
কৃপায় তোমার বিপদ যায় উতরে ।।৮।।
👉বিপদে পরে দেবতারা যখনই তোমার স্মরণ করেন , তৎক্ষণেই তারা আবার তোমার কৃপায় সেই বিপদ থেকে উতরেও যায় ।
তারকাসুর ভয়ে দেবগণ পালায়
রক্ষিতে শেষে কৈলাসে নেয় ঠাঁই ।।৯।।
👉 ব্রহ্মার বরে বলীয়ান তারকাসুর নামক মহাবলী দৈত্যের অত্যাচারে ভীত সন্ত্রস্ত দেবতারা নিজেদের রক্ষার জন্যে যখন কৈলাসপুরীতে এসে উপস্থিত হন ,
ততখন স্কন্দ তোমারই আজ্ঞায়
মারে তারকে দেবগণে রক্ষায় ।।১০।।
👉তাদের সেই দুর্দশা দেখে তুমি মহাসেন ( কার্তিক ) কে আজ্ঞা দিলে , তোমার নির্দেশে কার্তিক তখন যুদ্ধ করে তারকাসুরের বিনাশ করে দেবগণকে রক্ষা করেছিলেন ।
জলন্ধরের তুমি করো সংহার
তব যশকীর্তে-সমুদ্ধ এ সংসার ।।১১।।
👉 অসুররাজ জলন্ধরকে তুমি সংহার করেছিলে , তোমার যশ কীর্তি মহিমা গুন তো সমগ্র জগৎ-সংসারেই সমৃদ্ধ ও সকলেই সেই বিষয়েও অবগত ।
ত্রিপুর-দৈত্যসনে যুদ্ধিলে ভীষণ
দেবসবে দুঃখ করিলে নিরসন ।।১২।।
👉 আবার তোমারই ভক্তগণ তারকাক্ষ , কমলাক্ষ ও বিদ্যুন্মলী নামক ত্রিপুর দৈত্যদের সাথে ভীষণ যুদ্ধ করে তাদের বিনাশ করে পুনরায় দেবগণদের বিপদ থেকে মুক্ত করে তুমিই শান্তি প্রদান করেছিলে ।
ভাগীরথ তব কঠিন তপঃ করিলে
গঙ্গা জটায় ধরে চিন্তা যে হরিলে ।।১৩।।
👉নিজের(ভাগীরথ) ষাঠ হাজার পূর্বপুরুষগণ ঋষির অভিশাপে ভস্ম হোলে , ভাগীরথ তাদের মুক্ত করতে দেবী গঙ্গাকে মর্ত্যে আনতে কঠিন তপস্যা করে সফল হলেও গঙ্গার বেগ পৃথিবী ধারণ করতে অসমর্থ হওয়ায় গঙ্গা মর্ত্যে অবতারিত হতে পিছু হটেন , তখন বিপদে পরে পুনরায় ভাগীরথ ব্রহ্মার পরামর্শে তোমার কঠিন তপস্যা করলে তুমি তার তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে গঙ্গাকে নিজের জটাতে ধারণ করে ধীরগতিতে গঙ্গার মর্ত্যাবতরন করিয়েছিলে ফলে , ভাগীরথের পূর্বপুরুষ সগরবংশীদের মুক্তি ঘটেছিলো অন্তিমে , যা তোমারই তো কৃপা ।
দানে মহান তুমি অঘোর দাতা
জগতপতি ভক্তেরো পিতামাতা ।।১৪।।
👉তুমি সংসারের সর্বোচ্চ দাতা তুমিই মহান ও আশুতোষ , তুমি সম্পূর্ন চরাচর জগতের পতি ও সকল ভক্তদের কাছে তুমি তো পিতা মাতার ন্যায় স্নেহবৎসল , হে প্রভু ।
আগম-নিগম সদা গায় মহিমা
অজ্ঞাত তোমার তত্ত্বরূপ-গরিমা ।।১৫।।
👉তুমি সকলের অগম্য , সর্বশাস্ত্রের গুহ্য ও সারতত্ত্ব হওয়ায় তোমায় ও তোমার মহিমাকে পূর্ণরূপে কেউই জানতে সমর্থ নয় তবুও বেদ , আগম , শ্রুতি আদি সকলশাস্ত্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ রূপে তোমারই মহিমার গুণ কীর্তন করে থাকে।
মন্থনকালে বিষ হোলে উথিতো
বিষভয়ে হয় দেবাসুরাচর ভীতো ।।১৬।।
👉 সমুদ্রমন্থনের সময় যখন কালকূট নামক ভয়ংকর বিষ উত্থিত হয়েছিল , যার প্রতাপে মৃত্যুভয়ে শঙ্কিত সকল দেবতা অসুর জীব মনুষ্য ও সমস্ত জগত ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে তোমার শরণাপন্ন হয়েছিল ,
দয়ার সিন্ধু তুমি দয়া করিলে
হয়ে নীলকন্ঠ বিষ গলে ধরিলে ।।১৭।।
👉 তখন তাদের সেই দুর্দশা দেখে তোমার হৃদয়ে তাদের প্রতি দয়াভাব উৎপন্ন হোলে , তুমি নীলকন্ঠ স্বরূপ ধারণ করে সেই ভয়ংকর বিষ নিজের কণ্ঠে ধারণ করে সকলকে রক্ষা করেছিলে ও সকলের ওপর পুনঃরায় নিজের কৃপা বর্ষণ করেছিলে ।
হরির পরীক্ষা নিলে ত্রিপুরারী
হাজার কমলে করিলে এক চুরি ।।১৮।।
👉একদা বৈকুণ্ঠে নারায়ন যখন একসহস্র পদ্মফুল দ্বারা তোমার পূজা করছিলেন তখন তুমি তার ভক্তির পরীক্ষা নিতেই একটি পদ্মফুল লুকিয়ে রেখেছিলে ,
পূর্ণ করিতে অখন্ড শিবপূজন
চক্ষু উপাটে লিঙ্গে করে অর্পণ ।।১৯।।
👉তখন তোমার পূজাকে অখণ্ডভাবে সম্পূর্ন করতেই , কমলনয়ন শ্রীহরি কমলপুষ্প স্বরূপ নিজের একটি চক্ষুকে তোমার প্রতি সমর্পণ করেছিলেন ,
ভক্তিতে তুষ্ট হইয়ে তুমি তখন
দিইলে তারে মহাচক্র সুদর্শন ।।২০।।
👉 ভক্তির এমন পরাকাষ্ঠা দেখে তুমি প্রসন্নচিত্তে হরির প্রতি অতীব সন্তুষ্ট হয়ে সুদর্শন নামক একটি মহাশক্তিশালী চক্র তাকে প্রদান করেছিলে ।
সেতুবন্ধে পূজিলেন রাম তোমায়
জিতিবে লঙ্কা দিলে তুমি অভয় ।।২১।।
👉 রামেশ্বরমের সেতুবন্ধ নামক সমুদ্রতটে শ্রীরামচন্দ্র তোমার লিঙ্গস্থাপন করে পূজা করলে তুমি প্রসন্ন হয়ে রামকে নির্দ্বিধায় লঙ্কা জয়ের অভয় বরদান করেছিলে ।
ভক্তিতে কৃষ্ণ তোমারে পূজিলে
তোমার সমান হবে বরদান দিলে ।।২২।।
👉আবার যখন শ্রীকৃষ্ণ তোমার পূজা করেছিলেন তখনও তুমি ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে জগতে কৃষ্ণকে তোমার নিজের সমান যশ , খ্যাতি-কীর্তিযুক্ত ও সর্বত্র পূজ্য হবার বরদান করেছিলে ।
অবতারে হরি দম্ভতে মাতিলে
ধরে অনেক রূপে শিক্ষা যে দিলে ।।২৩।।
👉 তোমার শ্রেষ্ঠ ও প্রিয় ভক্ত শৈবোত্তম শ্রী বিষ্ণু যখন তার মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নরসিংহ ও বামনাদি অবতার ধারণের মাধ্যমে অসুর বধ করে জগতকে রক্ষার পর নিজেরই অসীম শক্তির অহঙ্কারের বশবর্তী হয়ে নিজেই জগতকে ধ্বংস করতে উদ্যত হলে , ব্রহ্মাদি-দেবগন জগৎ রক্ষার্থে তোমারই শরণাপন্ন হন । তখন তুমি বিভিন্ন রূপ / অবতার গ্রহণ করে সেই সকল হরির অবতারের দর্প চূর্ণ করেছিলে ও পুনরায় জগতকে রক্ষা করেছিলে ।
জয় মৃত্যুঞ্জয় অনন্ত অবিনাশী
কৃপা করো হে মোরে কৈলাসবাসী ।।২৪।।
👉হে মৃত্যুঞ্জয় শিব ! তুমি আদি-অন্তহীন অবিনাশী পরমেশ্বর , কৈলাস পর্বত উপরে বসবাসকারী শম্ভু তুমি আমার ওপরেও একটু কৃপা করো ।
কামবাসনা পীড়িত করে মোরে
ভক্তিতে বিঁধে মায়াভ্রমিত কোরে ।।২৫।।
👉 কাম বাসনা আদি বিকার আমায় সংসারদুঃখ আদি পীড়া প্রদান করে , আর সর্বদা মায়া আমাকে ভ্রমিত কোরে তোমার ভক্তি থেকে বিমুখ করতে অনেক বাধা উৎপন্ন করে ।
কৃপা করে প্রভু গো কিছু করো
ত্রিশূলাঘাতে বিকার মোর হরো ।।২৬।।
👉তাই কৃপা করে হে মহাদেব তুমিই কিছু করো , এবার তোমার হাতের ওই ত্রিশূল দ্বারা তুমি আমার এই সব দুষ্ট বিকারগুলির নাশ করো প্রভু ।
মাতা পিতা বন্ধু ভ্রাতা স্বজন
বিপদকালে না হয় কেউ আপন ।।২৭।।
👉মাতা , পিতা , ভাই , বোন , স্ত্রী , সন্তান , বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজন যেই থাকুক না কেনো , আমার বিপদ / সংকটকালে কিন্তু এরা / কেউই আমার পাশে নেই , বিপদে কেউ আপন হয় না ।
এক তুমিই প্রভু সাথে আমার
দয়া করে মোরে করো উদ্ধার ।।২৮।।
👉একমাত্র প্রভু তুমিই আমার সাথে আমার পাশে রয়েছো , তবে দয়াকরে এখন আমাকে তুমিই এই ঘোর সংকট / বিপদ থেকে উদ্ধার করো ।
দীন অনাথ ধনী বা গুণীজন
পূজিলে তোমায় ইচ্ছে করো পূরণ ।।২৯।।
👉 দীন-দরিদ্র , অনাথ , ধনী বা জ্ঞানী গুণী যে কেউই তোমার পূজা করে , তুমি তাদের সকলেরই সব মনস্কামনা ও বাঞ্ছনা পূর্ণ করো ।
স্তুতিজপপূজা না জানি তোমার
ভুল-ত্রুটি সব ক্ষমাকরো আমার ।।৩০।।
👉তোমার পূজাপাঠ , স্তুতি , যাগ-যজ্ঞ কিছুই না জেনে আমি তোমার পূজা , স্তুতি করি , সেসব করতে গিয়ে অজ্ঞান বশত কখনো আমার দ্বারা কোনো দোষ ভুল-ত্রুটি হয়ে যায় , তাহলে তুমি কৃপাপরায়ন ভাবে আমার সেই অপরাধ গুলিকে ক্ষমা করে দিও ।
শিবশঙ্কর তুমি সংকট তারক
বিঘ্ন বিনাশী প্রভু মঙ্গলকারক ।।৩১।।
👉হে শিব ! হে শঙ্কর ! প্রভু তুমি ভক্তের সকল সংকট তারক ও বিপদ , আপদ , বাধা-বিঘ্নের নাশক ও সদা ভক্তের শুভ ও মঙ্গল সাধনকারী ।
যোগীমুনি করে সদা যে তোমার ধ্যান
ব্যাস নারদ গায় তব গুন ও কীর্তন ।।৩২।।
👉 মুনি , ঋষি , যোগীগণ সদা তোমারই জপ ধ্যান করেন , ব্যাস নারদ ও তুরুম্বাদী সকলেই সর্বদা তোমারই গুন-মহিমার কীর্তন করে বেড়ায় ।
নমঃ শিবায় ॐ নমঃ শিবায়
হরি-ব্রহ্মা রত তোমার সেবায় ।।৩৩।।
👉 সর্বদা শ্রেষ্ঠমন্ত্র " নমঃ শিবায় " জপ করতে থাকা সুরশ্রেষ্ঠ বিষ্ণু ব্রহ্মা আদি সকলেই তোমার সেবায় নিযুক্ত থাকেন , সেই তোমাকে প্রণাম ।
ভক্তিযুত হয়ে যেবা জপ করে
সহায় হও সদা তাহার উপরে ।।৩৪।।
👉ভক্তিযুক্ত যেকোনো ভক্ত বা যে কেউই যদি " নমঃ শিবায় " এই শ্রেষ্ঠমন্ত্রের জপ করে , সদাসর্বদার জন্যে শঙ্কর ভগবান সেই ভক্তের উপরে সহায় হন ।
অর্থাভাবে দুখী ঋণগ্রহী যেবা
করেন পাঠ শিবের পূজা-সেবা ।।৩৫।।
👉আর্থিক দূরাবস্থায় পীড়িত অথবা ঋণাধারে জর্জরিত যেকেউ যদি এই শিব চল্লিশের পাঠ করে অথবা শিবের পূজা ভক্তি করে ,
কুমারী বন্ধ্যা মাঙ্গলি নারীনরে
শিবের প্রসাদ সকল দোষ হরে ।।৩৬।।
👉এছাড়া সন্তানহীন বন্ধ্যা কেউ , বিবাহবাধা গ্রস্থ ও মাঙ্গলিক দোষযুক্ত নারী-পুরুষ যে কেউই যদি শিব পূজা করে , তবে শিবের পূজা-ভক্তিরূপী মহাপুণ্যফল-প্রসাদের কৃপাতেই তার সকল বাধা দোষ কেটে যায় ও দুঃখক্লেশ মুক্ত হয় ।
শৈবগুরুকে নিজগৃহে আনিবে
শিবরাত্রির ব্রত-পূজন করিবে ।।৩৭।।
👉 শিব-চতুর্দশী / মহাশিবরাত্রী তিথিতে শুদ্ধ শৈব পরম্পরার গুরু বা জ্ঞানীকে নিজের গৃহে এনে তার দ্বারা শৈবমতে শিবের পূজা , চারপ্রহর ও হোমযজ্ঞ সম্পাদন করাবে ।
চারপ্রহর জাগরণ যেবা করে
শিব তার সব পাপ তাপ হরে ।।৩৮।।
👉শিবের সর্বাপেক্ষা প্রিয়তিথি শিবরাত্রির বা শিবমহাচতুর্দশী , তাই এই দিনে যে / যারা নিজগৃহে চতুর্দশী ব্রত পালন , পূজন , রাত্রি জাগরণ , চারপ্রহর আদি শিবপূজা করে , পরমেশ্বর ভগবান শিব তার সকল পাপ , তাপ , রোগ দুঃখ , ক্লেশ হরণ করে নেয় ।
ধূপ-দীপ-ভোগে আরতি করিবে
গৃহেতে শিবকথা শোনাবে শুনিবে ।।৩৯।।
👉 ধূপ , দীপ জ্বেলে শিবের পূজা আরতি করবে , মিষ্টান্ন , ফল ও পরমান্ন রান্না করে ভোগ দেবে ও পূজার শেষে শিবমহাপুরাণ পাঠ / শ্রবণ করবে সাথে শিবমহিমা কথা সকলকে পাঠ করে শোনাবে ও নিজেও শুনবে ।
ইহ জন্মেরো দোষপাপ মিটিবে
অন্তপরে শিবপদ তুমি লভিবে ।।৪০।।
👉 ফলস্বরূপ পূর্বজন্ম ও বর্তমান জন্মের পাপ , ভুল , ত্রুটি , দোষ সব নাশ হবে ও মৃত্যুর পর সদা সর্বদার জন্যে শিবের সাযুজ্যতা লাভ করবে ।
ভক্ত রুদ্রনাথের এক অভিলাষ
নাশো দুখক্লেশ হরো সংসারপাশ ।।৪১।।
👉 তাই ভক্ত রুদ্রনাথ তথা আমার মনের সর্বদা একটাই অভিলাষা বা ইচ্ছে , যেনো তুমি শীঘ্রই আমার ( রুদ্রনাথের বা ) সমস্ত দুঃখ-কষ্ট নাশ করে আমাকে সংসার স্বরূপ ভব-সাগরের মায়াপাশ ছিন্ন করে আমাকে মুক্ত করে দাও ।
অন্তিম দোহা
নিত্যদিনে ভক্তিতে পঠি শিব চল্লিশ
দুঃখকষ্ট হরে কল্যাণ করো হে ঈশ ।।১।।
সন একত্রিশের শ্রাবণেতে রচিলাম
অন্তে ঠাঁই যেনো হয় মোর শিবধাম ।।২।।
👉নিত্যদিন ভক্তিতে এই শিবচল্লিশ পাঠ করি , আমার দুঃখ কষ্ট হরণ করে হে ঈশ্বর শিব আমার কল্যাণ করো , বাংলা সাল গণনায় ১৪৩১ সনের পরমপবিত্র শ্রাবণ মাসে আমি শ্রী রুদ্রনাথ শৈব এই চল্লিশ রচনা করলাম , প্রার্থনা একটিই অন্তে সংসার থেকে মুক্ত হবার পরে যেনো তোমার শিবলোক ধামে আমার ঠাঁই হয় প্রভু ।
ইতি শ্রী শিবচল্লিশ সমাপ্ত হোলো।
চালিসাটির বাংলা পদ্যাকার ভাষায়
অনুবাদক ও রচয়িতা :- শ্রীরুদ্রনাথ শৈবজী
©RudraNath_Shaiva
পোস্টটির কপিরাইট ও প্রচারে - শৈবসাহিত্য Blog
।। শ্রীগুরু দক্ষিণামূর্তয়ে নমঃ ।।
।। সদাশিবম ভজাম্যাহম ।।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন